পতঙ্গ ও জীবজন্তু থেকেই জন্ম নিচ্ছে ৭৫-৮০ শতাংশ নতুন রোগ!

প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যার নাম দিয়েছে ২০১৯-এনসিওভি। তবে কোন প্রাণী থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে তা এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন যে রোগগুলো ছড়াচ্ছে তার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশের উৎস হচ্ছে বিভিন্ন পতঙ্গ ও জীবজন্তু।

মশাবাহিত আরেক ভয়ঙ্কর রোগের নাম চিকুনগুনিয়া। মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। গত বছর বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত এক ইস্যু ছিল ডেঙ্গুজ্বর। যদিও এই সরকারি সংখ্যা বেসরকারি হিসেবের চেয়েও অনেক কম। দেশের ইতিহাসে কোনও একক রোগে আক্রান্ত হয়ে এত মানুষের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নজির নেই। মশাবাহিত আরেক রোগ জিকা।

আবার খেজুরের কাঁচা রস পানে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এই নিপাহ ভাইরাসের উৎস হলো বাদুড়। এই রোগে আক্রান্ত হলে এখনও কোনও চিকিৎসা নেই। ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার শতকরা ৭০ ভাগ।

কয়েক বছর আগে বিশ্বজুড়ে ইবোলা ছড়িয়ে পরে। ধারণা করা হয় এটিও বাদুড় থেকেই এসেছে। প্রথমে বন্য প্রাণী থেকে এবং পরে মানুষ থেকে মানুষেও ছড়িয়েছে। ইবোলার মতোই মারবুর্গ ভাইরাস, যার প্রাথমিক উৎস হিসেবে বাদুড়কেই ভাবা হয়।

সেখান থেকে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য কেউ এতে সংক্রমিত হতে পারে। এতে আক্রান্ত হলে আট থেকে নয় দিনের মধ্যেই মৃত্যু হতে পারে। আবার মার্স (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) এসেছে উট থেকে। মার্সের আরেক গ্রোত্রভুক্ত সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি) এসেছে বাদুর থেকে।

আবার ২০১৩ সালে শনাক্ত হওয়া নোরো ভাইরাস ছড়িয়েছিল পাখির মাধ্যমে। ২০০০ সালে লেপটোসিরোসিসের উৎস হিসেবে ইঁদুরের প্রস্রাবের কথা জানান বিশেষজ্ঞরা। আবার সোয়াইন ফ্লু মূলত শুকরের রোগ হলেও,তাতে আক্রান্ত হয়েছে মানুষও।

সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, গত ২৫ বছরে বিশ্বে যোগ হয়েছে ৩৫টি নতুন রোগ। আর প্রতি ৮ মাসে পৃথিবীতে একটি করে নতুন রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব রোগের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশের জন্ম বিভিন্ন প্রাণী থেকে।

১০ বছর আগে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়া এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (ইউএস-সিডিসি) সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথের সহকারী পরিচালক পিটার বি ব্লোল্যান্ড জানিয়েছিলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ জীবাণু দ্বারা মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস আছে যার ৬১ শতাংশের উৎস প্রাণিজগৎ।

আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যবার্তায় অসুস্থ পশুপাখির সংস্পর্শে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আর সেটা কেবলমাত্র নভেল করোনা ভাইরাসের কথা চিন্তা করেই নয়। নভেল করোনা ভাইরাস আমাদের দেশে কোনও প্রাণীর মধ্যে নেই। কিন্তু শতকরা ৭৫ ভাগ রোগের সঙ্গে পশুপাখির সম্পৃক্ততা থাকে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর