বরগুনার বহুল আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে সোমবার আরও দুইজন ও শিশু আদালতের বিচারক ও জেলা জজ মো. হাফিজুর রহমানের আদালতে আরও তিনজনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
দায়রা আদালতে আবদুর রাজ্জাক, ও মো. রাশেদুল ইসলাম এবং শিশু আদালতে মিনারা বেগম, মোসা: ফুলি বেগম ও মো. কামাল যখন সাক্ষ্য দেন তখন জেলা ও দায়রা আদালতে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৯ জন আসামী ও শিশু আদালতে ১৪ জন শিশু আসামী উপস্থিত ছিল। এ পর্যন্ত জেলা ও দায়রা আদালতে ৫৫ জন ও শিশু আদালতে ২৮ জনের সাক্ষ্য জেরা সমাপ্ত হল। দায়রা আদালতে রিফাতকে হত্যার সেই বগি দা সনাক্ত।
দায়রা আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার পরে কোর্ট প্রাঙ্গণে সাক্ষ্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমি বরগুনা সরকারী কলেজের সুইপার পদে চাকরী করি। রিফাত হত্যার ১২ দিন পর সকাল সাড়ে ৯ টার সময় আমি নাস্তা খাবার জন্য কলেজ থেকে বাহিরে যেতে ছিলাম। তখন থানার পুলিশ একটি ছেলেকে নিয়ে কলেজের কাছে আসে।
অনেক লোক দেখে আমি সেখানে দাড়াই। ওই ছেলেটির দেখানো মতে বরগুনা কলেজের উত্তর পাশে দেয়াল সংলগ্ন পানির ডোবা হতে পুলিশ একটি বগি দা উঠায়। দাটি আমি টেবিলের উপর দেখি। পুলিশ বগি দা জব্দ করেন। আমি সেই জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর করেছি। আমি সেই বগি দা আদালতে সনাক্ত করেছি।
রাশেদুল ইসলাম আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, আমি বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ার্ড মাষ্টার পদে চাকরী করি। রিফাত শরীফ ২৬ জুন নিহত হবার পর সন্ধ্যা অনুমান ৭ টার সময় পুলিশ যখন সুরাতহাল রিপোর্ট তৈরী করে, তখন আমি সঙ্গে ছিলাম।
রিফাতের শরীরে অসংখ্য কোপের চিহৃ দেখতে পাই। শিশু আদালতে সাক্ষ্য দেয় মিনারা বেগম, নয়ন বন্ডের বাসার কাজের মহিলা ফুলি বেগম ও ঘটনাস্থলের ক্যালিক্স একাডেমির দারোয়ান মো. কালাম। কালাম বলেন, ২৬ জুন আমি ১৫/২৫ জন ছেলে রিফাত শরীফকে কোপায় ও মারধর করতে দেখেছি।
আসামী পক্ষের আইনজীবী মো. মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, সাক্ষ্যরা যে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাতে কোন শিশু আসামীকে কোপাতে বা মারধর করতে দেখেননি।
রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (বিশেষ পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আদালতে তিনজনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। আমি দেখা সাক্ষ্য কালামকে বৈরী ঘোষনা করে জেরা করেছি। তখন আসামীদের নাম স্মরন করতে পেরেছে কালাম।
বার্তাবাজার/কেএ