সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় চলছে সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ১৭ কিলোমিটার মরা করতোয়া নদী খননের কাজ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কাজ করছে। এ নদীর দু’পাড়ে রয়েছে আবাদি জমি ও বসতবাড়ি । অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদী খননের নকশার বাইরে অতিরিক্ত মাটি ব্যক্তিমালিকানা জমিতে ফেলে শত শত হেক্টর জমি বিনষ্ট করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেড়াগাঁতী, রুদ্রপুর, কোদলা দিগর, পার কোদলা, দাথিয়া দিগর, বেনী মাথব ও লক্ষীবিষু প্রসাদ মৌজার মরা করতোয়া নদীর দু’পাড়ে প্রায় তিন শতাধিক ব্যক্তিমালিকানা সম্পত্তির উপর নদী খননের মাটি রেখে শত শত হেক্টর আবাদি জমি, গাছ, বাঁশ, শস্য ও বাড়ির ক্ষতি করা হয়েছে।

সরেজমিনে গেলে রুদ্রপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তার শেখসহ অনেকেই জানায়, নদী খননের দু’পাড়ের মাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাদি জমি ও বসতবাড়ি ভেঙ্গে রাখা হচ্ছে। বসতবাড়ির মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দিয়েই নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া দু’পাড়ের অতিরিক্ত মাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন চিহ্নিত জায়গায় রাখাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় প্রায় শতাধিক পরিবার। এলাকাবাসীর প্রশ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা খনন শুরুর পূর্বে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে নদীর জায়গা চিহ্নিত করার পরও কেন ব্যক্তিমালিকানা জায়গায় মাটি রাখা হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ ও জমির মূল্য পরিশোধ করার পর ওই জমিতে উন্নয়ন মূলক কাজ করতে হবে। তাছাড়া যে সব জমিতে খননের মাটি রাখা হয়েছে সে গুলো সিএস, এসএ ও আরএস ম্যাপ অনুযায়ী মালিকানাধীন সম্পত্তি। তবুও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ফলে জমি ও বসতবাড়ি হারানোর শঙ্কায় স্থানীয় এলাকাবাসী। ভুক্তভোগী মো. এরশাদ সেখ জানান, আমার বাপ দাদার সম্পত্তির উপর প্রায় ২০ টি ইউকলিপ্টাস গাছ ছিলো তা ধবংস করে মাটি রাখা হয়েছে। এতে আমার প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এভাবে আমাদের ক্ষতি করলে আমরা কোথায় যাবো।
সংশ্লিষ্ট পাউবোর স্থানীয় শাখা কর্মকর্তা (এসও) মো. মাছুদুল হক জানান, গত বছরের শেষ সপ্তাহের দিকে মরা করতোয়া নদী খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। খনন কাজের নকশা ছাড়িয়ে অনত্র মাটি রাখা হচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে অনেকেই আমাদের কাছে এসেছিলেন অভিযোগ করতে। পরে বুঝিয়ে বলার পর চলে গেছে। এ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্র্মকর্তা মো. শামীমুর রহমান মুঠোফোনে জানান, করতোয়া নদী খননের মাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় রাখা হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ইতিমধ্যে তদন্ত করার জন্য সার্ভেয়ারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তা বাজার/এম.সি