আবেদনের যোগ্যতা থাকলেই পোষ্য কোটায় ভর্তি চায় ইবি কর্মকর্তারা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা থাকলেই পোষ্য কোটায় ভর্তির সুযোগ চায় এখানকার কর্মকর্তারা। সোমবার বেলা ১১টায় কর্মবিরতি এবং অবস্থান কর্মসূচী পালনকালে এ দাবী জানান তারা।
জানা যায়, সোমবার বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতি পূর্বের ১৩ দফাসহ নতুন আরো ৩ দফা, মোট ১৬ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন। কর্মবিরতির পাশাপাশি এসময় তারা বেলা সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচীও পালন করেন।
কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম জোহার সভাপতিত্বে এবং সাধরণ সম্পাদক মীর মোরশেদুল আলমের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচীতে কর্মকর্তা সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ রাশিদুজ্জামান খান টুটুল, কোষাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ, নির্বাহী সদস্য মোঃ গোলাম হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক ও মোঃ উকিল উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এসময় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌষ্য কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম আবেদনের (ভর্তি পরীক্ষা) যোগ্যতা থাকলেই ভর্তির ব্যবস্থা করা, পূর্বের ন্যায় সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত কর্মঘন্টা নির্ধারণ, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছরে উন্নীত করাসহ ১৬ টি দাবীর কথা বলেন।
তাদের দাবী, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ দাবি বাস্তবায়নে তাদেরকে বারংবার আশ্বাস দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত একটি দাবিও মানা হয়নি।
এসময় তারা বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১-১২ পর্যন্ত ১ ঘন্টা করে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। এতেও যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত না পাওয়া যায় তাহলে আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে কর্মবিরতি এবং প্রয়োজনে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন বলেও জানান বক্তারা।
এদিকে, আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের দাবীসমূহকে অযৌক্তিক দাবী করে বিভিন্ন দপ্তরের রুটিন কার্যক্রম চালিয়েছেন কর্মকর্তাদের অপর একটি অংশ।
কর্মবিরতির বিষয়টিকে তারা ভালো চোখে দেখছেন না জানিয়ে এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মীর মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, ভিসি স্যার তাদের যথেষ্ট সম্মান দেয় এবং এ বিষয়ে সেখানে কথাবার্তা হয় কিন্তু কথাবার্তা এক রকম হয় মাঠে ময়দানে তারা বক্তৃতা দেয় আরেক রকম। তাদের যে কথাবার্তা সেটা আমাদের কাছে গ্রহণ যোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, আমরা কর্মবিরতিতে অংশ গ্রহণ করিনি, অফিসের নিয়মিত রুটিনের কাজ চালিয়ে গেছি। কারণ এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
এ সম্পর্কে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, বেতন স্কেলের বিষয়টি নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে আংশিক অনুমোদন হয়েছে ঢালাওভাবে সবাই পাবেনা। যাদের মাস্টার্স ডিগ্রি আছে তারা পাবে। চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছরের বিষয়টি চ্যান্সেলর এর অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌষ্য কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম আবেদনের (ভর্তি পরীক্ষা) যোগ্যতা থাকলেই ভর্তির ব্যবস্থা করার বিষয়টিকে অযৌক্তিক এবং অবাস্তব বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা মনে করেন, পোষ্য কোটায় এধরনের মেধাহীন শিক্ষার্থী ভর্তি করা লজ্জাজনক। যারা এ ধরনের দাবী করছেন তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করতে চান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ন্যায়সঙ্গত দাবী অতীতেও মানা হয়েছে ভবিষ্যতেও মানা হবে।
বার্তা বাজার/এসজে
বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর