দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদী খননের পর সেই বালু নদীর পাড়ে চরের ফসলি জমির উপর ফেলার প্রতিবাদে নদী এলাকায় মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউনিয়নের কাশিমনগর এলাকায় আত্রাই নদীর চরে ভূমিহীন কৃষকেরা তাদের ফসল ঘরে তোলার জন্য দুই মাস সময় চেয়ে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন।
মানববন্ধনে কৃষকরা দাবি জানান, আত্রাই নদীতে জেগে উঠা চর এলাকায় পিয়াজ, আলু, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে চর এলাকার ভূমিহীন কৃষকরা সংসার পরিচালনা করে আসছি। এদিকে নদী গুলোর নাব্যতা ফেরাতে সারা দেশেই নদী খননের কাজ শুরু হয়েছে।
বীরগঞ্জের কাশিমনগর গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ নদীর চরে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসলেও নদী খননের বালু ফসলি জমিতে ফেলায় ফসল নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে দুই মাস সময় দিলে ফসল ঘরে তোলার পর নদীর বালু সেসব জায়গায় ফেললে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছন অনেক কৃষক।
মানববন্ধনে কাশিমনগর এলাকার ফজর আলী বলেন, ‘আমি নদীর চরে ৯ বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। এছাড়াও ধান ও ভুট্টা লাগানো হয়েছে। আমার মত অনেক ভূমিহীন কৃষকরাই চরে আবাদ করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে নদী খননের মাধ্যমে যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সেই বালু গুলো আমাদের ফসলের উপর ফেলায় আমরা হুমকির মুখে পড়েছি। আমি ২ লাখ টাকা খরচ করে এসব চাষাবাদ করছি। যদি বালু ফেলে আমার ফসল নষ্ট হয়ে যায় তাহলে আমার পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।’
একই অবস্থা সেখানকার আলম শেখের। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই মাস সময় দিলে আমরা ফসল গুলো ঘরে তুলতে পারতাম। নদী খননের বালু গুলো আমাদের ফসলের উপর পড়লে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতি সদয় হবেন বলে তিনি অনুরোধ করেছেন।’
এর আগে গত শনিবার এলাকাবাসী ৪০ দিনের সময় চেয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানান।
আবেদনের বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে কাশিমনগর এলাকার কৃষকরা এসে ৪০ দিনের সময় চেয়ে একটি আবেদন দিয়েছেন। আমি বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করেছি। যাতে কৃষকদের ক্ষতি না হয় আবার সরকারি কাজও বন্ধ না থাকে। আশা করি বিষয়টি সমাধান হয়ে দুই পক্ষের কাজই চলমান থাকবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী তৌহিদ সারোয়ার বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই ওই সব এলাকায় নদীর চরে যাতে কেউ ফসল না রোপন করে সেজন্য প্রচারণা চালিয়েছি। আজকে যেহেতু এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে মানববন্ধন করেছে সেজন্য আমরাও একটু সরেজমিন গিয়ে দেখতে চাই। যদি একান্তই সমস্যা হয় তাহলে বিষয়টি আমরা আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।’
বার্তা বাজার/এসজে