চট্টগ্রামের বানিজ্যিক এলাকা কদমতলীতে বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ভল্ট ভেঙে টাকা লুটের চেষ্টায় ওই ভবনেরই দুই বাসিন্দাকে সন্দেহ করছে পুলিশ।
রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারী) পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম জোন) ফারুকুল হক জানিয়েছেন শনিবার(০৮ ফেব্রুয়ারী) ব্যাংক লুটের চেষ্টায় পাঁচতলা ওই ভবনের পঞ্চম তলায় ঘর ভাড়া নেওয়া কয়েক যুবককে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “কয়েকজন যুবক এনজিওর অফিস করবেন বলে জিলানী মার্কেট নামে পরিচিত এই ব্যাংক ভবনের পঞ্চম তলায় একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুইজন অফিস পরিষ্কারের কথা বলে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সেখানে অবস্থান করা শুরু করেছিলেন।
“ভল্ট চুরির চেষ্টার পর থেকে তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া ভবনের দ্বিতীয় তলায় ব্যাংকটির অবস্থান হলেও নৈশ প্রহরীকে পাওয়া গেছে পঞ্চম তলায়। তাই সন্দেহের দিকটি তাদের দিকেই যায়।”
এছাড়া তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চোরের দল আগেই ওই ভবনে অবস্থান নিয়েছিল এবং আগে পরিকল্পনা করে সেই অনুযায়ী তারা ব্যাংকে ঢুকে ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করে।
উল্লেখ্য, শনিবার(০৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বেসরকারি ব্যাংক ইউসিবি’র নগরীর কদমতলী শাখায় নিরাপত্তাকর্মীকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ব্যাংকের গেইটের তিনটি তালা কাটা পাওয়া যায়।
এই অবস্থা দেখে পুলিশ ডেকে ভেতরে ঢোকেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। সেখানে ভল্ট ভাঙার চেষ্টা হওয়ার প্রমাণ দেখতে পান তারা। পরে ঢাকা থেকে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা গিয়ে মধ্যরাতে টাকা গুণে দেখেছেন তাতে কোনো হেরফের হয়নি।
শনিবার(০৮ ফেব্রুয়ারী) ব্যাংকলুটের চেষ্টার খবর পেয়ে ডবলমুরিং থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে এসেই উর্দ্ধতনদের কর্মকর্তাদের অবহিত করলে পশ্চিম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফারুক উল হক সহ পশ্চিম বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও ডবলমুরিং থানার ওসি সহ সকল সদস্য সেখানে যান। এরপর সিআইডি ও ইউসিবি ব্যাংকের কর্মকর্তা বৃন্দ, আসার পরে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু ব্যাংকের ভল্টটি খুলতে ব্যাংকের কর্মকর্তারা ব্যর্থ হন, কারণ দুর্বৃত্তদের ভল্ট খোলার চেষ্টা কালে, তা নষ্ট হয়ে যায়, পরে UCB এর হেড অফিস থেকে লোক পাঠানো হলে, তারা এসে ভল্টটি খুললে বোঝা যায় যে, চেষ্টা করলেও চুরি করতে তারা সক্ষম হয়নি।
শনিবারের এই ঘটনায় নগরীর ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ইউসিবির কদমতলী শাখার ব্যবস্থাপক টুংকু হুমায়ুন মোহাম্মদ রাশেদ।
ওই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেন বলেন, প্রহরীকে বিষ প্রয়োগ করে চুরির জন্য রাতের বেলা অফিসে প্রবেশের ঘটনায় মামলাটি করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩২৮, ৪৫৭, ৩৮০ ও ৩৪ ধারায় এই মামলা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, ব্যাংকের ভল্টের চাবি দিয়ে তা খোলার চেষ্টা করা হলেও খুলতে পারেনি চোরের দল। ভল্টে রাখা ০২ কোটি ৫১ লাখ ৯৭ হাজার ২০০ টাকা অক্ষত আছে। তবে ভল্টের নিরাপত্তা অ্যালার্ম খুলে ফেলার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার ডিভিআরের হার্ড ডিস্ক খোয়া গেছে।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস