বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে জামিন দিয়েছেন নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালত। নড়াইলের একটি মানহানি মামলায় জামিন পান তিনি।
রোববার দুপুরে আদালতের বিচারক নীলুফার শিরিনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।
২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামরুজ্জামান কামাল বাদী হয়ে মানহানি মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলের মতবিনিময় সভায় ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার সম্পর্কে কটূক্তি করে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেন। মাহমুদুর রহমানের ওই বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ হাততালি দিয়ে উক্ত বক্তব্য সমর্থন করেন।
ওই ঘটনায় মাহমুদুর রহমানকে প্রধান আসামি ও বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলের সভাপতি এমএ হালিম এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে আসামি করে নড়াইল সদর আমলি আদালতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামরুজ্জামান কামাল হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মানহানির ওই মামলাটি করেন।
অ্যাডভোকেট আব্দুল হক ও অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, পিপি অ্যাডভোকেট ইমদাদুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট অচিন চক্রবর্তী।
এ দিকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ আদালতে হাজিরা দিতে নড়াইলে গেলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।
জামিন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মওদুদ আহমদ বলেন, একটি তুচ্ছ মামলায় হাজিরা দিতে সুদূর ঢাকা থেকে নড়াইলে এসেছি। এ মামলাটি আদালতের গ্রহণ করা উচিত হয়নি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হল ২০১৭ সালে ঢাকা প্রেস ক্লাবে একটি আলোচনা সভায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বর্তমান সরকারকে সমালোচনা করে একটি বক্তব্য রেখেছিলেন। আমি তার সমর্থনে শুধু করতালি দিয়েছিলাম। আর চার্জশিটে লিখল আমি করতালি দিয়ে তাকে উৎসাহ দিয়েছি। করতালি যে একটা ক্রিমিনাল অপরাধ, আমি তা জানতাম না।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক কারণে সরকার খালেদা জিয়াকে জামিন দিচ্ছে না। এই ধরনের মামলায় আদালত জামিন দিয়ে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় দুই বছর অতিবাহিত হলেও খালেদা জিয়া জামিন পেলেন না।’
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস