ব্যবসায়ী হেলাল হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি : আদালতে দু’জনের স্বীকারোক্তি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। হত্যাকারীদের ফাাঁসির দাবিতে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করে। হেলাল উদ্দিনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের রাধাবল্লবপুর গ্রামের মো. হাসিম উদ্দিনের দুই ছেলের মধ্যে ছোট হেলাল উদ্দিন (৩৫)। উচাখিলা বাজারের চুন ও পাতার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে গত ১৮ জানুয়ারি রাতে নিখোঁজ হন। বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে র্যাব ৪ ফেব্রুয়ারি উচাখিলার ঈশ্বরপুর গ্রামের আক্কাছ ওরফে আকাশ (১৮) ও মঘা গ্রামের ইজিবাইক চালক কাঞ্চন মিয়া (১৮) কে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
বিষয়টি নিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি হেলালের স্ত্রী বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। অপহরণের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ আকাশ ও কাঞ্চনকে আদালতে সোপর্দ করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাধাবল্লবপুর গ্রামের রিপন আচার্য্য (২৮), মঘা গ্রামের মো.ফারুখ মিয়া (১৯) ও উচাখিলা বক্ষিলবাড়ি এলাকার খায়রুল ইসলাম (১৪) কে আটক করা হয়।
তাদেরকে আদালতে পাঠানো হলে খায়রুলকে কিশোর সংশোধনাগারে এবং রিপন ও ফারুখকে ২ দিনের রিমান্ডে আনা হয়।
রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে রিপন ও ফারুখ ঘটনার মূল হোতা হিসেবে রাধাবল্লবপুর গ্রামের প্রাণেশ আচার্য্যরে ছেলে উত্তম আচার্য্যরে নাম বলে। সিলেটে আত্মগোপনে থাকা উত্তম আচার্য্যকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেটের স্থানীয় পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
উত্তমকে জিজ্ঞাসাবাদে হেলালের বিষয়ে তথ্য দেয় পুলিশকে। হত্যাকাণ্ডে ১৫ জন জড়িত থাকার কথা জানায় উত্তম। হেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে চাইলেও অভিযানে অংশ নেওয়া রিপন আচার্য্যকে চিনে ফেলায় হাত-পা বেঁধে গলায় মাফলার প্যাঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। হেলালের বাড়ি থেকে মাত্র একশ গজ দূরেই শাহেদের জমিতে চালানো হয় হত্যাকাণ্ড। পরে পাশেই কামরুল ইসলামের বাড়িতে একটি অব্যহৃত টয়লেটের টেংকির ভেতরে ফেলে রাখা হয়। এর পর হেলালের কাছ থেকে পাওয়া ২০ হাজার টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে যায়। এতেই ক্ষ্যান্ত না হয়ে হত্যা করার দু’দিন পর নিহতের ভাইয়ের মুঠোফোনে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।
গত শুক্রবার গভীর রাতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় উচাখিলা গ্রামের রুবেল মিয়া (২৫) এনামুল মিয়া (১৭), আবদুল হামিদ (১৮) কে। শনিবার বিকেলে উত্তম আচার্য্যকে আদালতে হাজির করা হলে সে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি মূলক জবানন্দি দেয়। গতকাল রোববার রিমান্ড শেষে রিপন আচার্য্য ও ফারুখকে আদালতে হাজির করা হলে তারাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় । রুবেল, এনামূল ও আবদুল হামিদকে রোববার রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়।
ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে নির্মম ভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার উচাখিলা বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানায়। বেলা ২ টায় উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একে.এম মুদাব্বিরুল ইসলাম, নিহতের ভাই দুলাল মিয়া প্রমুখ।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই শাওন চক্রবর্তী বলেন, হেলাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে ৯ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার পর্যন্ত ২ জন হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বার্তা বাজার/এসজে