ব্যাংকের অর্থ লোপাট, ক্যাসিনো কারবারসহ নানা দুর্নীতির মাধ্যমে যারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের সম্পদ জব্দ করতে শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। গেল ছয় মাসে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুদক অর্ধশত ব্যক্তির প্রায় চার হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে। রাজনীতিক, আমলা ও ব্যবসায়ীসহ আরও অর্ধশত ব্যক্তির সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া চলছে।
ক্যাসিনো কারবার, টেন্ডার বানিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়া। সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এ দুই-ভাইয়ের সব ব্যাংক হিসাব এরইমধ্যে জব্দ করেছে দুদক। সবশেষ তাদের ১২০টি বাড়িসহ অন্যান্য সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে অচিরেই।
পলাতক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদারের দেশে ৯৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ১৮টি যৌথ অ্যাকাউন্টে দেড় হাজার কোটি টাকা জব্দ করেছে দুদক। এছাড়া তার নামে থাকা প্রায় দুই শ কোটি টাকার সম্পদও জব্দ হয়েছে। দুদক মনে করছে, তার বেনামি সম্পদ এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
নথিপত্র বলছে, গেলো ছয়মাসে এমন অর্ধশত ব্যক্তির প্রায় চার হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ হয়েছে। এদের মধ্যে ক্যাসিনো কারবারে নাম আসা ব্যক্তি রয়েছেন ২২জন, বাকিরা রাজনীতিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার।
দুর্নীতি দমন কমিশন সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, তদন্তের স্বার্থেই তাদের সম্পদ জব্দ করা হয়। এগুলো জব্দ করা না হলে এসব অবৈধ সম্পদ তারা অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে।
দুর্নীতি বা অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন এমন আরও অর্ধশত ব্যক্তির সম্পদও জব্দের তালিকায় রয়েছে। যাদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি, আমলা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ব্যক্তি রয়েছেন। তবে এখনই তাদের পরিচয় জানাতে চান না দুদক সচিব।
দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, দুদকের যে বিধিমালা আছে সে অনুযায়ী সম্পদ যদি জব্দ করতে হয়, সেটি করা হবে।
গেলো ছয়মাসে প্রায় একহাজার ব্যক্তির সম্পদের বিভিন্ন তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্য পাঠাতে শুরু করেছে।
ডিবিসি নিউজ
বার্তাবাজার/কে.জে.পি