‘সাইপ্রাসের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এজেন্সিগুলো’

বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন এজেন্সিগুলো সাইপ্রাসের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দেওয়ার নামে মানুষকে লোভনীয় ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে মানুষকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষও না জেনে না বুঝে প্রতারকদের ফাঁদে পাঁ দিচ্ছে। কোন ধরণের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা এগুলো বলেনা দালালরা।

প্রথমে জানিয়ে রাখি গ্রীক সাইপ্রাসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হয় সাধারণত তিন ধরণের:
১. গরুর ফার্মের ভিসা:
এই ভিসাগুলি হয় বিভিন্ন গরুর খামারের আন্ডারে। আপনাকে কাজ করতে হবে ফার্মে। ফার্মে সাধারণত ১০-১২ ঘন্টা কাজ করতে হয়। ফার্মের কাজ অনেক বেশি কষ্টদায়ক। কোন বাঙালী এসব কাজ করতে পারেনা। অনেকেই ২০ দিন বা ২৫ দিন করেই বেতন না নিয়েই চাকরি ছেড়ে চলে এসেছে। আবার বেতনও অনেক কম। মাত্র ৪০০-৫০০ ইউরো বেতন মাসে।

২. এগ্রিকালচার ভিসা:-
এই ভিসাগুলি হয় বিভিন্ন ক্ষেত খামারের মালিকের আন্ডারে। কাজ হচ্ছে সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। যেমন আলুক্ষেতে কাজ করা, বিভিন্ন সবজি ফলানোর ক্ষেতে কাজ করতে হয়। এই কাজগুলিও অনেক কষ্টের। এর কারণ হচ্ছে, সাইপ্রাস সাধারণত দুই ধরণের আবহাওয়া। শীতকালে এত বেশি শীত যেক্ষেতের কাজ করা এটা আমাদের জন্য সম্ভবই না। আর গরমকালে এতবেশি তাপমাত্রা থাকে তাও এ কাজ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। এসব কাজ বাঙালী করতে পারেনা আর করতে দেখিওনা। আর বেতন দেয় মাত্র মাসে ৫০০-৬০০ ইউরো।

৩. হাউজিং ভিসা:-
এ ভিসাগুলো হয় বিভিন্ন বাসার কাজে। বাসার কাজ আবার দুই ধরণের। (ক) ১২ বছরের নিচে বাচ্ছাদেরকে দেখাশুনা করা এবং (খ) ৭৫ বছরের উপরে বৃদ্ধদেরকে দেখাশুনা করা। এ ছাড়া হাউজিং ভিসা হয় না। তবে যারা এসব ভিসায় আসে তাদেরকে বাসার সব কাজই করায়। তবে এ ভিসাগুলিতে আসে মেয়েরা। পুরুষদেরকে এসব কাজে রাখেনা কেউ। আর বেতন হচ্ছে ৪৫০-৫০০ ইউরো। থাকা-খাওয়া মালিকের।

ছবি: সংগৃহীত

এইবার আসি অন্য প্ৰসঙ্গে, সাইপ্রাসে যারায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় লোক আনে এগুলি কেবল নামেমাত্র ওয়ার্ক পারমিট। যারা এসব কাজ করে তারা বিভিন্ন ফার্ম, খামার, এবং বয়স্ক লোকের সাথে একটা এমাউন্টের বিনিময়ে চুক্তি করে যে, তার একজন লোক আসবে আসার পরেই মালিক থেকে রিলিজ নিয়ে নিবে। সেজন্য মালিককে একটা মোটা অংকের টাকা দিতে হয়, প্রায় ২-৩ হাজার ইউরোর কাছাকাছি। এরপর যে আসবে তার কাছ থেকে ৭-১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়। এইবার সে সাইপ্রাস আসার পরে প্রথম এক বছরের ভেতর যদি এসব কাজে অন্য কোন মালিক খুঁজে পায় তখন সে যে মালিকের কাছে আসছে তার কাছ থেকে ভিসা ট্রান্সপার নিতে পারবে। তবে এ এক বছর থাকে প্রতি মাসে ১২০ ইউরো ইন্সুরেন্স কন্টিনিউ চালাতে হবে। বছরে ১৬০০ ইউরো ইন্সুরেন্স না চালালে আর ভিসা লাগাতে পারবেনা। আর যদি মালিক খুঁজে না পায় তখন সে আর ভিসা লাগাতে পারেনা। এরপর তাকে রিফিউজি মেরে থাকতে হবে। সাইপ্রাসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় এসে ভিসা কন্টিনিউ চালাতে পেরেছে
এমন লোকের সংখ্যা পুরো সাইপ্রাসে ৫০ জনও পাওয়া যাবে না। সুতরাং, নামেমাত্র ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় কাউকে সাইপ্রাস না আসার অনুরোধ করছি।

লেখক: মাহাফুজুল হক চৌধুরী, প্রবাসী, নিকোশিয়া, সাইপ্রাস।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর