দেশের একমাত্র চর্তুদেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টে হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলেও ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে আসা পাথরবাহী ট্রাক চালকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই প্রবেশ করছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় মেডিকেল টিম কাজ করলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উন্নত থার্মাল স্ক্যানার না থাকায় উদ্বিগ্ন যাত্রীরা। গত ৮ দিনে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পাসপোর্ট ধারী যাত্রী যাতায়াত করেছে।
সম্প্রতি চীনে নোভেল করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় রোগ প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি ইমিগ্রেশনে মত বাংলাবান্ধায় বসানো হয়েছে মেড়িকেল টিম। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে নোভেল করোনা ভাইরাস বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উন্নত মানের যন্ত্রপাতি নেই মেড়িকেল টিমটির কাছে। শুধু হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে প্রাথমিকভাবে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে। এদিকে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে আসা পাথরবাহী ট্রাক চালকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই প্রবেশ করছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে।
চীনের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটান হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পথ দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে “করোনা ভাইরাস” বিষয়ক সতর্কতা জারি করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
চীনের মহামারী আকার ধারণ করা নোভেল “করোনা ভাইরাস” প্রতিরোধ ও সনাক্তকরণের জন্য বাংলাবান্ধায় মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হলেও “করোনা ভাইরাস” সনাক্তকরণের জন্য উন্নত মানের সরঞ্জাম না থাকায় শুধু মিনি থামার্ল স্ক্যানার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে মেডিক্যাল টিম।
গত মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের একটি কক্ষে মেডিকেল টিমের এ কার্যক্রম চালু করে। ১১ দিন দুইটি থার্মোমিটার দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
তবে ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে মিনি থামার্ল ষ্ক্যানার দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম। বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে আসা যাত্রীদের মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, সর্দি, কাশি, হাচি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যাথা হচ্ছে কি না তা শুধু হ্যান্ড থামার্ল স্কানার দিয়ে চলছে “করোনা ভাইরাস” নির্ণয়।
পাসপোর্টধারী যাত্রীরা জানান, বাংলাবান্ধার স্থলবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেই উন্নতমানের যন্ত্রপাতি। দ্রুত উন্নতমানের থার্মাল স্ক্যানার বসানোর দাবী জানান তারা। তবে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে আসা পাথরবাহী ট্রাক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না বলে জানায় ট্রাক চালকরা।
মেডিক্যাল ক্যাম্পের স্বাস্থ্য সহকারী পরির্দশক আজিজার রহমান জানান, হ্যান্ড থার্মোমিটার দিয়ে গত ১১ দিনে ২ হাজার ২শত যাত্রীদের আমরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছি। ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টে মিনি থামার্ল স্ক্যানার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টায় পর্যন্ত আমরা ২শত ৪১ জন পাসপোর্টধারীদের যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছি। কারোর মধ্যে জ্বর বা সর্দি কিছু দেখলে আমরা তাৎক্ষনিক রেফার্ড করবো পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে। এখন পর্যন্ত কোন রোগী সনাক্ত হয়নি।
বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক মোঃ আলতাফ হোসেন জানান, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করছে। পাসপোর্টধারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর আমরা তাদের ইমিগ্রেশন করছি। তবে ভারত থেকে ট্রাক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে কিনা তা জানিনা। ট্রাক চালকরা স্থলবন্দর থেকে কারপাস নিয়ে যাতায়াত করছে। তবে বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষের ও স্বাস্থ্য বিভাগের।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ফজলুর রহমান জানান, বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের একটি কক্ষে মেডিকেল টিমের কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য থার্মাল স্ক্যানার দিয়েছি। আমরা শুধু জ্বরের রোগী দেখছি। জ্বরের রোগী আসলে আমরা তাদের মধ্যে কোন কিছু আছে কিনা তা দেখছি। এখন পর্যন্ত কোন রোগী সনাক্ত হয়নি। তবে তিনি জানান, ভারত,নেপাল ও ভুটান থেকে আসা পাথরবাহী ট্রাক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে কিনা সেই বিষয়টি ইমিগ্রেশন পুলিশের দ্বায়িত্ব। তারা কেন ট্রাক চালকদের ঢুকতে দিচ্ছে।
বার্তাবাজার/এমকে