ইতিহাস বিভাগের আন্দোলন অব্যাহত, শিক্ষার্থীদের একাত্মতা প্রকাশ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বিভাগ অনুমোদনের দাবীতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) এর ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৷

তাতে একাত্মতা প্রকাশ করছে বশেমুরবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা৷ সোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তারা ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন৷ এছাড়াও অনেকেই আন্দোলনের স্থান প্রশাসনিক ভবনের সমানে গিয়েও শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন৷

ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই চলছিলো গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগ।

২ ফেব্রুয়ারী থেকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা৷ পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আশ্বাস দেয়া হয় এ ব্যাপারে ৬ ফেব্রুয়ারী এক সভা হবে ইউজিসির সাথে৷

তারই পরিপ্রেক্ষিতে ৬ ফেব্রুয়ারী রোজ বৃহস্পতিবার ইউজিসির সাথে এ ব্যাপারে সভা হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের৷ ইউজিসির পক্ষ থেকে শুধুমাত্র তিন ব্যাচের অনুমতি দেয়া হয় এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ইতিহাস বিভাগে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।কিন্তু এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ৬ ফেব্রুয়ারী রাত ৯টা থেকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ভবনের নিচে আন্দোলন শুরু করেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে কথা বললে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহজাহান জানান, “ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন প্রসঙ্গে আজকে ইউজিসির সাথে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অধ্যয়নরত ইতিহাস বিভাগের তিনটি ব্যাচকেই তারা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এবং পরবর্তী বছর থেকে এ বিভাগে যেন আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা না হয় সে ব্যাপারে তারা আমাদেরকে অবহিত করেছেন।”

তিনি আরও জানান, “ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন এবং তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে ৷”

উল্লেখ্য, ইউজিসির অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার অ্যান্ড বাংলাদেশ স্টাডিজ (বিলওয়াবস) ইনস্টিটিউটের অধীনে ইতিহাস বিভাগ চালু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। কিন্তু এই ইনস্টিটিউটের অধীনে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির কার্যক্রম চালানোর বিধান নেই। ফলে নিয়মের বাইরে গিয়ে চলছে ইতিহাস বিভাগের কার্যক্রম৷

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর