শুক্রবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় আজ শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিহত সংখ্যা চারজনই। নিহত চারজনেরই পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এর মধ্যে এক নারীসহ দুজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজনের লাশ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতেই রয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন একজন। এ ছাড়াও সামান্য আহত ১০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আনিসুর রহমান।
নিহতরা হলেন নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া এলাকার মো. আলীর স্ত্রী ঝর্ণা বেগম (৩৫), সোনাইমুড়ি উপজেলার আম্বরনগর গ্রামের মৃত আবদুল বারেকের পুত্র আবু সুফিয়ান (৩৮)। বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর গ্রামের জাকির হোসেনের পুত্র মো. মনিরুজ্জামান সম্রাট (২৬) ও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামের নুরুল আবচারের পুত্র সাজেদ উল্লাহ (২৬)।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার ছেড়ে আসা ফেনীগামী যাত্রীবোঝাই স্টারলাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকামেট্টো-ব-১৫-২৩৪৩) সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কাছে উত্তর-পশ্চিমাংশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন পুরুষ ও একজন নারী যাত্রী। গুরুতর একজনসহ আহত হন ১১ জন। আহত যাত্রীদের তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে থানা পুলিশ। এ সময় যোগ দেন চিরিঙ্গা হাইওয়ে ও হারবাং ফাঁড়ি পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তারা একযোগে উদ্ধার তৎপরতা চালান। গাড়ির ভেতর থেকে একে একে চারজনের লাশ বের করা হয়। দুর্ঘটনায় পতিত বাসটি ক্রেন দিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে রাত ১১টার দিকে মহাসড়কে যানচলাচল পুনরায় শুরু হয়।
ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন মারা যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে। যারা আহত হয়েছেন তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হলেও অন্যদের আঘাত তেমন বেশি নয়।
মহাসড়কের বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থলে যে চারজন মারা গেছে সবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুজনকে এর মধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদেরও হস্তান্তরপ্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, আজ শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আহতদের মধ্যে আর কোনো যাত্রী মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি