ইজতেমা নিয়ে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি মহড়া

ইজতেমা নিয়ে সিলেটে সাদ পন্থী ও মাওলানা জুবায়ের পন্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ‍দক্ষিণ সুরমা এলাকায় সাদপন্থীরা আকষ্মিকভাবে ইজতেমার ঘোষনা দিলে এ উত্তেজনা শুরু হয়।

শুক্রবার দিন হতেই দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পাল্টাপাল্টি মহড়া দেওয়া হয় চন্ডিপুলে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় দক্ষিন সুরমায়। এদিকে- প্রশাসনের মধ্যস্থতায় অবশেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তিন দিনের ইজতেমা প্রশাসনের অনুরোধে দুই দিনে শেষ করে গতকাল রাতেই বদিকোনা ছেড়েছেন মাওলানা সাদপন্থী তাবলিগ জামাতের নেতারা। বিভক্তির পর সিলেটে মাওলানা জুবায়ের পন্থিদের দখলে থাকে পুরাতন মারকাজ খোজারখলা।

উলামারা তাবলিগ জামাতের ওই অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। আর বিভক্ত হয়ে মাওলানা সাদপন্থীরা শহরতলীর বদিকোনায় নতুন মারকাজ গড়ে তোলেন।

ওই অংশের নেতা মাওলানা সুয়ারেজ আফজাল। এরপর থেকেই সিলেটে তাদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান রয়েছে। এরই মধ্যে মাওলানা সাদপন্থীরা সিলেটের মারকাজে তিন দিনের জেলা ইজতেমা ঘোষণা দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বদিকোনা অবস্থান নেন। হঠাৎ করে তাদের অবস্থান নিয়ে সিলেটে মাওলানা জুবায়েরপন্থিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পুলিশ জানায়- সাদপন্থীরা সিলেটে দোয়া মাহফিলের কথা বলে বৃহস্পতিবার রাতে বদিকোনা বসেন। ফলে দোয়া মাহফিলের ব্যাপারে প্রশাসন কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোনো বিধি নিষেধ ছিলো না। কিন্তু এর মধ্যে তারা তিন দিনের জেলা ইজতেমা ঘোষনা দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ এনে জড়ো করেন। তাবু টানিয়ে ইজতেমার মতো আয়োজন করেন। দাওয়াত দেয়া হয় বিভিন্ন মহলকে। আর এই দাওয়াত ও জেলা ইজতেমার খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্র বৃহস্পতিবার রাতে খোজারখলা মারকাজে বৈঠক করেন মাওলানা জুবায়েরপন্থীরা। তারা সিলেটে সাদপন্থীদের আয়োজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিহতের ডাক দেন। শুক্রবার সকালে তারা নগরীর চন্ডিপুলে জমায়াতের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ফলে, রাত থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সিলেটে। সকাল হতেই উত্তেজনার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এই অবস্থায় চন্ডিপুল, বদিকোনা সহ কয়েকটি এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকে বদিকোনা মারকাজেও বাড়তে থাকে লোক সংখ্যা। সকাল ৯টার দিকে প্রচারের নামে বদিকোনা মারকাজ থেকে একটি টিম মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়। তারা নগরীর চন্ডিপুলে এসে মহড়া দিয়ে চলে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্র খোজারখলার মারকাজ থেকে কিছু সংখ্যক লোক অবস্থান নেয় চন্ডিপুলে গিয়ে। এদিকে- সকাল ১০টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার আজবাহার শেখ ও উপ কমিশনার সোহেল রেজার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম খোলারখলা মারকাজে এসে মাওলানা জুবায়েরপন্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাবলীগের জেলা নেতারা এ সময় পুলিশের কাছে তিনটি দাবি উপস্থাপন করেন।

দাবিগুলো ছিলো, বিশ্ব ইজতেমার জৌলুস নষ্ট করতে জেলা ইজতেমা পালন না করা, সাদপন্থীদের শীর্ষ নেতা ওয়াসিফুল ইসলামকে সিলেটে প্রবেশ করতে না দেওয়া ও বদিকোনার ইজতেমার ভেঙ্গে দেওয়া। পুলিশ কর্মকর্তারা বৈঠকে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম সিলেটের আমীর মাওলানা মুহিবুল হক গাছবাড়ি, সিলেটের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, তাবলিগের নেতা হাজী আছাব উদ্দিন, মাওলানা শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে তারা বদিকোনা মারকাজে সাদপন্থীদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। বৈঠকের সিদ্বান্ত অনুযায়ী শুক্রবার রাতেই সাদপন্থীরা তাদের দোয়া মাহফিলের আয়োজন শেষ করার ঘোষনা দেন। তার আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খোজারখলা মারকাজ থেকে মাওলানা জুবায়েরপন্থীদের শীর্ষ নেতারা দলবেধে চন্ডিপুল যান। সেখানে গিয়ে তারা আগে থেকে অবস্থানরত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় অনেক কর্মী লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করেন।

হেফাজতে ইসলাম সিলেটের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ জানিয়েছেন- ‘পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে আলেম-উলামারা শান্ত হন। এরপর আমরা গিয়ে চন্ডিপুলের নেতাদের ফিরিয়ে আনি। আমাদের তিন দফা দাবি মেনে নেয়ার কারণে আমরা চলে এসেছি। বাকি কাজ পুলিশ করবে।’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান- বদিকোনার মাহফিল সন্ধ্যার পর শেষ করা হয়েছে। এরপর থেকে বদিকোনা অংশের নেতারা চলে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।

মাওলানা সাদপন্থী তাবলিগ জামাতের নেতারা জানান- তারা সবার অনুমতি নিয়েই এ ইজতেমার আয়োজন করেছেন। এতে হাজার হাজার কর্মী উপস্থিত হন। শেষে পুলিশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তারা শুক্রবার রাতে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর