জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে দুই ছাত্রীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার এক ছাত্রী মেসে বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা দুই দফায় এক ছাত্রীকে র্যাগ দেওয়া হয়। সাথে আরেক ছাত্রীও র্যাগিং এর কারনে অসুস্থ হয়ে পরে বলে জানা গেছে।
র্যাগের শিকার দুই ছাত্রী জানান, তারা বিশ্ববিদ্যালয় চেকপোস্ট সংলগ্ন একটি ছাত্রী মেসে থাকেন। বুধবার (৫ই ফেব্রুয়ারি) তাদের কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যান সিনিয়ররা। সেখানে র্যাগিংয়ের শিকার হন তারা। তাদের মধ্যে একজন সেদিনই অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেদিনই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অপর এক ছাত্রীকে আবার ডেকে নিয়ে দ্বিতীয় র্যাগ দেওয়া হয়। অপরাধ ছিল তার সঙ্গে ওড়না না থাকা ও সুরা বলতে না পারা।
এরপর ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে ঐদিন রাতেই প্রথমে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরবর্তীতে বমি শুরু হলে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে নিপীড়নের শিকার ছাত্রীর মা বাড়ি থেকে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার মে্য়েকে অমানবিকভাবে র্যাগ দেওয়া হয়েছে। তাকে পোশাক পরা, সুরা বলা এসব বিষয়ে র্যাগ দেওয়া হয়েছে। আমার মেয়ে কী পোশাক পরবে সেটা আমি ঠিক করব। ওরা কে এসব নিয়ে কথা বলার’।
তিনি বলেন, ‘প্রশাসন দায়িত্ব নিতে না পারলে আমার মেয়েকে এখানে পড়াব না’।
তবে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী নিরাপত্তাজনিত কারণে জড়িতদের নাম তাৎক্ষণিক সাংবাদিকদের সামনে উল্লেখ করেননি।
অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী বলেন, ‘র্যাগিং নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুততম সময়ে এই সমস্যার সমাধান করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’।
প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, রবিবারের মধ্যে এই বিষয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমিটি রবিবার সকাল ১০টায় র্যাগিং বিরোধী কর্মসূচি পালন করবে।
বার্তা বাজার/ এসজে