দুর্নীতিবাজ ধরতে গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিয়োগ করবে দুদক

সারাদেশের জেলা কার্যালয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতিবাজদের ধরতে এসব গোয়েন্দাদের নিয়োগ দেয়া হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মাদক কারবার, সন্ত্রাস, খাস জমি দখল, ঘুষ-দুর্নীতির সাথে জড়িতদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করে প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট করবেন। কমিশন রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে ডেকেয়ার সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার ড. মো: মোজাম্মেল হক খান, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখতসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অর্থ পাচার শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। আমাদের আশপাশের দেশগুলোতেও অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক উন্নয়নও হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকারও কাজ করছে, দুদকও কাজ করছে। কমিশন থেকে বিভিন্ন প্রকল্প মনিটরিং করা হচ্ছে। যারা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করছে, তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যে বা যারা অবৈধভাবে ব্যাংকের বা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে এবং তা পাচার করে বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে, তাদের প্রত্যেককেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ইন্টারপোলসহ আন্তর্জাতিক সব আইনি টুলস, টেকনিক প্রয়োগ করে অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে অপরাধের বিচার করা হবে।

দেশের সম্পদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সিঙ্গাপুরসহ আমাদের আশপাশের দেশগুলো থেকে আমরা কিছু কিছু তথ্য পাচ্ছি। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ওইসব দেশের আদালতের সহায়তায় অপরাধীদের সম্পদ জব্দ করা এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। কমিশনের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে হংকংয়ের আদালতের সহায়তায় কিছু অবৈধ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে ট্রেডবেজড মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সাথে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি, পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় এ জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দফতরে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন। দুদকের এই ডে-কেয়ার সেন্টার কার্যক্রম দেখে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে আরো সক্রিয় হবে।

দুদকের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করছে মন্তব্য করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, গ্রেফতার ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানেও তারা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। দুর্নীতি দমনে তাদের দৃঢ় মানসিকতা রয়েছে। তাদের শিশুদের নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করায় তাদের কাজের মান ও পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস। শিশুরা এখানে খেলাধুলা করতে পারবে এবং আনন্দের সাথে কিছু শিখতেও পারবে।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর