ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিলো টেকনাফের ২০শিক্ষার্থী

আবারো কেন্দ্র সচিবের অবহেলায় চলতি এসএসসি পরিক্ষায় কক্সবাজারের টেকনাফ এজাহার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০জন শিক্ষার্থীদের কাছে ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ফলে পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও শংকিত ২০শিক্ষার্থী। এঘটনায় সংশ্লিষ্ট হল পর্যবেক্ষক, হল সুপার ও কেন্দ্র সচিবকে কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সুরাহা না করে বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ কেন্দ্র সচিরের বিরুদ্ধে।

গেলো ৩ ফেব্রুয়ারী এসএসসি পরিক্ষার প্রথম দিনে টেকনাফ এজাহার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে (কেন্দ্র নং-২)’র মোট ১১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১৫ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই নিয়মিত পরীক্ষার্থী। উক্ত কেন্দ্রের ১৪ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থী ছিলো ৩০জন। এদের মধ্যে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫জন ও নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫জন। তৎমধ্যে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন ও নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছে বিগত ২০১৮ সালের এসএসসি সিলেবাস অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি পরীক্ষা চলাকালীন জানাজানি না হলেও পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কারনে পরীক্ষার্থীদের পরষ্পর আলোচনায় বিষয়টি প্রকাশ পায়।

এ ঘটনায় ৬ ফেব্রুয়ারী কেন্দ্র সচিব টেকনাফ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নূরুল আবছার, কেন্দ্র সুপার এজাহার সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাব্বির আহমদ, একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক (১৪নং) হল পর্যবেক্ষক আব্দুল আজিজ কে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বশীল সূত্র।

বুধবার ৫ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকজন পরীক্ষার্থীর অবিভাবক টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাতে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করলে তিনি এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন বলে প্রতিবেদক কে জানিয়াছেন অবিভাবকরা।

বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র সচিব আবছার বার্তা বাজারকে জানান- হল পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব অবহেলার কারনে ঘটনাটি ঘটেছে। তৎক্ষনাত যদি আমাকে অবহিত করলে বিষয়টি সুরাহা করার উদ্যোগ গ্রহন করা হতো। ক্ষতিগ্রস্থ ২০জন পরীক্ষার্থীর রোল নাম্বার ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে সে অনুযায়ী উক্ত পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র ২০১৮ সালের প্রদত্ত প্রশ্ন পত্রের আলোকে যাচাই বাচাই করা হবে। তবে এই বিষয়ে নিজের দ্বায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে ফোনের সংযোগ কেটেদেন। পূনরায় চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধানে জানাযায়, বিগত ২০১৮ সালে জেএসসি পরীক্ষায় একাডেমিক সুপার ভাইজার নূরুল আবছারের একই ভূলের কারনে টেকনাফ এজাহার সরকারী বালিকা ও শাহপরীরদ্বীপ হাজি বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিলো। পূনরায় একই ভুলের কারনে অবিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে নেমে এসেছে হতাশা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ‘বার্তা বাজার’ কে জানান, দায়িত্ব অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট ৩জন কে অব্যাহতি দিয়ে নতুন ৩ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ২০ জন পরীক্ষার্থীর বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে, ভূল প্রশ্নের শিকার কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভূল প্রশ্নের কারনে পরীক্ষা অশানরূপ হয়নি। তারা পরীক্ষা ফলাফল ও নিজেদের শিক্ষা জীবন নিয়েও শংকিত।

বার্তা বাজার/ এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর