সহকারী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্তির পর বেতনও তুলেছেন দুই মাস। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের দাবি করা ঘুষের টাকা দিতে না পারায় লালমনিরহাটে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হলো মনোয়ারুল ইসলাম নামে এক সহকারী শিক্ষককে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করার পর মনোয়ারুল ইসলাম ২০১৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন লালমনিরহাটের কুমড়িরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ে। দীর্ঘ তিন বছর বিনা বেতনে চাকরির পর ২০১৯ সালের শেষে তার পদটি এমপিওভুক্ত হয়। দুই মাসের বেতনও তুলেছেন তিনি। কিন্তু এর পরই দেখা দেয় বিপত্তি। তার কাছে আট লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম। টাকা না পেয়ে প্রথমে বেতন বন্ধ এবং পরে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলামের।
স্থানীয়দের দাবি, প্রধান শিক্ষক হিসেবে কামরুল ইসলাম যোগ দেয়ার পর বিদ্যালয়ে অবনতি ঘটেছে শিক্ষার পরিবেশ। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নিয়োগবাণিজ্য, বিদ্যালয়ের সম্পদ লুটপাটসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে গেলে তাকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। একইভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকও।
এদিকে, প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।
সূত্র: ডিবিসি নিউজ
বার্তাবাজার/কে.জে.পি