চীন থেকে ফিরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে

চীন থেকে ঢাকায় ফিরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন এক শিক্ষার্থী। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে চীনের উহান শহর থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল ৩১২ বাংলাদেশিকে।

এর বাইরেও উহানসহ চীনের আরও অনেক শহরে এখনো রয়েছেন অনেক বাংলাদেশি। তাদেরই একজন হৃদয় খান (২৫) দেশে ফিরেছেন মঙ্গলবার রাতে। সায়েদাবাদে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সংজ্ঞা হারিয়েছেন।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদরে। অজ্ঞান পার্টি তার সঙ্গে থাকা নগদ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন আত্মীয় মো. আবু সিদ্দিক।

চীন ফেরত হৃদয় খান সম্পর্কে তার নাতি হন। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সায়েদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উদ্ধার করেন হৃদয় খানকে। তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় হৃদয়কে।

শরীরে জ্বর বা অন্য উপসর্গ না থাকলেও চীন থেকে আসায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সায়দাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুজন মিয়া জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খবর পাই, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের ভেতরের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় একজন পড়ে আছেন।

তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তাররা তার স্টমাক ওয়াশ করেছেন। ধারণা করছি, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন তিনি। এএসআই সুজন জানান, হৃদয়ের কাছে পাসপোর্ট পাওয়া গেছে, যা থেকে জানতে পারি তিনি চীন থেকে এসেছেন।

আর তার কাছে যে মোবাইল ফোন ছিল, তার মাধ্যমে তার দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতে সমর্থ হই। তাদের সঙ্গে কথা বলেই হৃদয়ের তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের কাছে তথ্য পেয়ে হৃদয়ের দূর সম্পর্কের একজন আত্মীয় আবু সিদ্দিক এসেছিলেন ঢামেক হাসপাতালে। চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। আট মাস আগে পড়ালেখার উদ্দেশ্যেই চীন যান তিনি। মঙ্গলবার রাতে ?হৃদয় দেশে ফিরেছেন। বিমানবন্দর থেকে গ্রামের বাড়ি যাবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

হৃদয়ের আত্মীয় মো. আবু সিদ্দিক বলেন, ঢামেক কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় তাকে। সেখানে তার স্বাস্থ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষায় কিছুই ধরা পড়েনি।

এরপর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল তাকে ছেড়ে দিয়ে বলেছে, ঢামেক থেকে আরেকটি টেস্ট করার জন্য। ওই পরীক্ষা সম্পন্ন করে গতকাল বিকাল ৪টার দিকে তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর উদ্দেশ্যে চলে যান হৃদয় খান।

তাকে উদ্ধারকারী পুলিশ কনস্টেবল সুভাষ বলেন, ওই ছাত্র বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য পরীক্ষার করে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল। পথে অজ্ঞান পার্টির লোকজন জুস খাওয়ালে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

পরিবারের বরাত দিয়ে ঢামেক ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বাচ্চু বলেন, গতকাল সকালে নিজ উদ্যোগে চীন থেকে বাংলাদেশ আসেন হৃদয়। সায়েদাবাদ বলাকা বাস টার্মিনালে তিনি অজ্ঞান অবস্থায় পড়েছিলেন। পুলিশ তাকে ঢামেকে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাকে ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, হৃদয় খান নামে এক তরুণকে হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। জানা গেছে, তিনি গত রাতে চীন থেকে ফিরেছেন।

প্রাথমিকভাবে তার শরীরে জ্বর বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার অন্য কোনো উপসর্গ পাওয়া যায়নি। তারপরও যেহেতু তিনি চীন থেকে এসেছেন, তাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না, সে বিষয়ক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর