গণফোরামে দেখা দিয়েছে ঝামেলা । দলটির সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া কেন্দ্রীয় তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছেন। আবার সেই ক্ষোভে সব বহিষ্কৃতরা মিলে খোদ সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককেই সাময়িক বহিষ্কার করেছেন!
দলের হাই কমান্ডের একজন জানিয়েছেন ‘ একটা ঝামেলা শুরু হয়েছে। এই বহিষ্কারাদেশের ব্যাপারে কিছুই জানি না। মহাবিপদে আছি আর কী।’
এই বহিষ্কার ও পাল্টা বহিষ্কার নিয়ে দলটিতে দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই বলছে, দলীয় সভাপতির সম্মতি নিয়েই সবকিছু হচ্ছে। যদিও দুপক্ষের কেউই এখন পর্যন্ত দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করেননি।
ড. কামাল হোসেন গণফোরামের সভাপতি সেই প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৯২ সাল থেকে।
গত বছরের ২৬ এপ্রিল গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল হয়। এরপর ৫ মে গণফোরামের পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হয়। এক বছর মেয়াদি পুনর্গঠিত কমিটিতে সভাপতি পদে বহাল থাকেন ড. কামাল হোসেন। সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান রেজা কিবরিয়া। তিনি মোস্তফা মোহসীন মন্টুর স্থলাভিষিক্ত হন। রেজা কিবরিয়ার বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়া ২০০১ সালে হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই) আসনের সাংসদ ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরামে যোগ দেন রেজা কিবরিয়া। তাঁকে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়। রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হন। তবে তিনি হেরে যান।
একাধিক সূত্র জানায়, রেজা কিবরিয়ার সাধারণ সম্পাদক হওয়া সহজভাবে নিতে পারেননি দলের একাধিক নেতা। এদের মধ্যে নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীও আছেন। আজ প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপের সময় সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়ার বিষয়ে তাঁর উষ্মা প্রকাশ পায়। বর্তমান সংকট নিয়ে সুব্রত চৌধুরী বলছিলেন, ‘অনেক পদায়ন হচ্ছে, আবার বাইরের লোকদের নিয়ে এসে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সব হচ্ছে একক সিদ্ধান্তে। সাধারণ সম্পাদক নিজে এসব করছেন। স্যারের (ড. কামাল হোসেন) হয়তো সই নিচ্ছেন।’
রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি গত ৩০ জানুয়ারি ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ’ করার দায়ে দলের প্রচার সম্পাদক খান সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামীম ও হেলাল উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এ তথ্য জানান রেজার সঙ্গে বহিষ্কৃত দলীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশতাক আহমেদ।
রেজা কিবরিয়ার এ সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ করে দলের একাংশকে।
রেজা কিবরিয়া বিরোধীদের দাবি, গত ২৮ জানুয়ারি তারা ‘দলীয় কর্মকাণ্ডে না থাকার জন্য’ সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়াকে এবং ‘দলের মধ্যে উপদল সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের; ’ জন্য সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির ৫৮ জন সদস্য মিলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামীম। তবে মুশতাক আহমেদ বলেন, গতকাল মঙ্গলবার গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জগলুল হায়দারের চেম্বারে বসে দলের গুটিকয়েক লোক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বার্তা বাজার / এসজে