হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় টেকাদেঘী অটো বয়লার মিলে বিস্ফোরণে ফায়ারম্যান নাছির মিয়া (৩৬) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৬ জন শ্রমিক।
বিস্ফোরনের শব্দে সমগ্র এলাকা কেঁপে উঠে। বিকট শব্দের পর পর বাসা-বাড়ির নারী, পুরু্ষ, শিশু আতংকে ঘর থেকে বের হয়ে আসে। প্রথমে ভূমিকম্প ভাবলেও পরে বিস্ফোরনের খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সবাই।
বিস্ফোরনে চুলার চিমনি উড়ে গিয়ে প্রায় ৫০০-১০০০ গজ দূরে গিয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী ইব্রাহিম (রঃ) জামে মজসিদ, আলী ভিলা, আনসার ভিডিপি ব্যাংক,আল-হেরা বই ঘরসহ প্রায় ৫-৬টি বাসা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
বুধবার (৫ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওসমানী রোড টেকাদিঘীর মার্কেটে অবস্থিত ধান সিদ্ধ দেয়ার বয়লার মিলে এঘটনাটি ঘটে। নিহত নাছির মিয়া উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের ভুমিরবাক গ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বয়লারের ফায়ারম্যান নাছির মিয়াসহ ৫ জন শ্রমিক ধান সিদ্ধ দেয়ার কাজ শুরু করেন । আকষ্মিক বিষ্ফোরনে ঘটনাস্থলেই ফায়ারম্যান নাছির মিয়া নিহত হন।
আরও ৬ জন আহত হয়। আহতরা হলেন- বয়লার শ্রমিক আব্দুল কাদির (৩৯), নিতাই দাশ(৪০), ম্যানাজার মিলন দাশ (৪৬), সফিকুর রহমান (৩৫) শ্রীকান্ত দাশ (৪০) ও পাশের বাসার রীনা দাশ (৪০), আব্দুল কাদির (৩৯)। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্ভতি ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। আহত আব্দুল কাদিরকে (৩৯) আশংকাজনক অবস্থায় হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লিডার ফজল মিয়ার নেতৃত্বে দমকল বাহির্নী টিম ১ ঘন্টা পর আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আনে।
নবীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মোঃ আজিজুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের সুরতাহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, উপজেলা নিবার্হী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল, পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিঠু, উপজেলা আওয়ামৗলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, মোস্তাক আহমদ মিলু, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোঃ আলমগীর মিয়াসহ রাজনৈতিক,জনপ্রতিনিধি,সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বার্তা বাজার/ এসজে