নুরুদ্দিন খান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে ত্রিশালে দিনব্যাপি বিনামূল্যে চক্ষুশিবির
নুরুদ্দিন খান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের আয়োজনে ও ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় গতকাল বুধবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে ধানীখোলা দক্ষিণ ভাটিপাড়া গ্রামে দিনব্যাপি বিনামূলে চক্ষুশিবিরে চলে চিকিৎসা সেবা।
ধানীখোলা দক্ষিণ ভাটিপাড়া জহিরুল উলূম দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে বুধবার ( ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিনামূল্যের ওই চক্ষুশিবিরে সহস্রাধিক রোগি দেখেন ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসকরা। স্বাভাবিক রোগিদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরন করা হয় ঔষধ। যেসকল রোগিদের চোখে ছানী পড়েছে এমন ১৩৮ জন রোগির মধ্যে ৫০ জনকে অপারেশনের জন্য গতকাল বুধবারই ভাড়া করা পরিবহনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ময়মনসিংহের ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে। বাকি ৮৮ জনকে অপারেশনের জন্য নেয়া হবে আগামি ২৫ মার্চ। উৎসাহব্যঞ্জকভাবে দিনব্যাপি চক্ষুশিবিরে স্বেচ্ছাশ্রম দেন ওই গ্রামের মনিরুল হক খান, আফজাল হোসেন, নয়ন তালুকদার, দেলোয়ার হোসেন, ফারুক মন্ডল, মোহাম্মদ তালুকদার সহ ২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক।

দরিদ্র পরিবারের ৮৫ বছর বয়সি রাবেয়া খাতুনের মত বৃদ্ধ বয়সি শিমুলিয়াপাড়া গ্রামের আয়েশা খাতুন, হেলেনা খাতুন, মোক্ষপুর ইউনিয়নের লালপুর কৈতরবাড়ী গ্রামের ৯০ বছর বয়সি আবদুল কাদের বেপারি, স্থানীয় আবদুল হেকিম ও আফাজ উদ্দিন বিনামূল্যে চোখের ছানী অপারেশনের জন্য ময়মনসিংহের যাওয়ার আগে নুরুদ্দিন খান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত চোখের সমস্যায় ভুগছি, কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা বা অপারেশন করতে পারিনি। সমাজের বিত্তবানরা যেন, উনাদের মত করে এভাবেই গরীব-অসহায় মানুষদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান।

এদিকে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ধানীখোলা ইউনিয়নসহ সাধারণ মানুষকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে নুরুদ্দিন খান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। প্রতি শুক্রবার ওই ট্রাস্টের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একজন নারী ও একজন পুরুষ চিকিৎসক প্রায় তিন শতাধিক রোগি দেখে থাকেন। রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরন করা হয় এবং জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ অথবা ঢাকায় নিয়ে ট্রাস্টের অর্থায়নে উন্নত চিকিৎসা দেয়া হয় বলে জানান ট্রাস্ট চেয়ারম্যানের মেজ ছেলে নাঈমুল হক খান।
ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নুরুদ্দিন খান বলেন, গরীব অসহায় মানুষের সেবা করে মনে আনন্দ পাই।
বার্তা বাজার/এস.আর