আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারকের উদ্দেশ্যে জুতা নিক্ষেপ

মঙ্গলবার বেলা ১২ টা। আদালতকক্ষে তখন আইনজীবিদের ভিড়। ভিড়ের মধ্যে কড়া নিরাপত্তায় জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার মসিউদ্দিন ওরফে মুসার সাক্ষ্যগ্রহণ মাত্র শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আচমকা বিচারকের দিকে উড়ে এল জুতা। অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তা গিয়ে লাগলো এক আইনজীবীর গালে। চারপাশে উত্তেজনা তৈরি হলো।

আদালতের ভেতর আসামীর এমন কাণ্ডে হতভম্ব হয়ে যান কলকাতা নগর দায়রা জজ আদালতে উপস্থিত বিচার আর আইনজীবীসহ বাকি সবাই। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, যখন ঘটনাটি ঘটে তখন রাগে থরথর করে কাঁপছিলেন মূসা নামের ওই আসামী। বিচারকের উদ্দেশে জুতা ছুড়ে মারার পর তাকে নানারকম কটূক্তি করতেও শোনা গেছে।

কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার জানিয়েছে, বিচারকের সঙ্গে আসামীর এমন ব্যবহার দেখে জোর করে তাকে লকআপে নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা। ঘটনার পর আদালতের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সশরীরে হাজির না করিয়ে এখন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মূসার সাক্ষ্যগ্রহণের চিন্তাভাবনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে মূসার এমন আচরণ এটাই প্রথম নয়। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কেন্দ্রীয় সংশোধন কেন্দ্রে পাইপ দিয়ে মূসা কারারক্ষীর মাথায় আঘাত করেছিলেন। কারাগার থেকে বিচারাধীন এক বন্দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন ওই কারারক্ষী। পাইপের আঘাতে তার মাথায় এতটাই গভীর ক্ষত নিয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এরও আগে আলিপুরে কারারক্ষী হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে। তখন অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন ওই রক্ষী। তাকে কাটা পাথর ও চামচ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, চামচটি ঘষে ধারালো করে অতর্কিতে ওই কারারক্ষীকে হামলা করেন মূসা। দুই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ মূসাউদ্দিন ওরফে মূসাকে ২০১৬ সালের ৪ জুলাই বর্ধমান স্টেশন থেকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ। বর্তমানে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হেফাজতে আছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) গোয়েন্দারাও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

বার্তা বাজার / ওয়ালিদ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর