আন্তর্জাতিকভাবে ‘একঘরে’ চীন

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন।
আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়েছে দেশটি। ভাইরাসের আতঙ্ক প্রভাব ফেলেছে চীনের পুঁজিবাজারসহ অর্থনীতিতে। আতঙ্কে চীনে ব্যবসা পরিচালনা সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ সঙ্কটে চীনের আর্থিক ক্ষতি ৬ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম।

চীনা চান্দ্রবর্ষ উপলক্ষে প্রতিবছরই এ সময়ে পর্যটনমুখর থাকে চীনের হোটেল আর পর্যটন কেন্দ্রগুলো। যাত্রীসেবায় তাই ব্যস্ত থাকে এয়ারলাইন্সগুলো। কিন্তু এ বছরের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন।

ভাইরাস ২০টরিও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়ায় চীন ভ্রমণে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশ। ফলে ফ্লাইট, হোটেল বুকিং বাতিল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটির পর্যটন খাত। চীনের অর্থনীতির ১১ শতাংশ নির্ভর করে পর্যটন খাতের ওপর।

এদিকে চীনা নববর্ষের ছুটি শেষে লেনদেন শুরুর প্রথম দিনেই ধসের মুখে পড়ে দেশটির শেয়ার বাজার। সোমবার সাংহাই কম্পোজিট সূচকের পতন হয়েছে প্রায় আট শতাংশ। এক ধাক্কায় বাজার মূলধন কমে যায় ৩৭০ বিলিয়ন ডলার। যা গেলো চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

শুধু শেয়ার বাজার নয়; করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে চীনের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। দেশটিতে ইতোমধ্যে ফক্সকন, টয়োটা, স্টারবাক্স, ম্যাকডনাল্ডস এবং ফক্সওয়াগনের মতো কর্পোরেট জায়ান্টরা তাদের ব্যবসা স্থগিত করেছে, বন্ধ করে দিয়েছে শোরুম।

দেশটিতে কাজকর্ম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে গুগল, টেসলাসহ আন্তর্জাতিক একাধিক প্রতিষ্ঠান। দুটি থিম পার্ক বন্ধ করে দিয়েছে ডিজনি।

চীনের রপ্তানি বাণিজ্যে লোহা, তেল ও তামার দামও পড়ে গেছে। মুদ্রাবাজারের লেনদেনে চীনের ইউয়ান এখন চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তারল্য সঙ্কট এড়াতে অর্থনীতিতে ২ হাজার ২শ’ কোটি ডলার যোগ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের সহকারী পরিচালক লিয়ান উইলিয়াং বলেন, “চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির ওপর করোনাভাইরাসের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে পরিবহন, পর্যটন, বিনোদন আর সেবাখাত থমকে গেছে অনেকটা। তবে করোনা প্রতিরোধের ওপরই সবচেয়ে জোর দিচ্ছি আমরা। আশা করছি, অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে না।”

চীনের প্রবৃদ্ধির হার কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বৈশ্বিক জিডিপিতেও এর প্রভাব পড়বে। কারণ, বিশ্বের মোট উৎপাদনের এক-পঞ্চমাংশ আসে চীন থেকে। এর আগে ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৪ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছিল।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর