সাভারে ৪টি হত্যার রহস্য উদঘাটন, কিলিং স্কোয়াডের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

ঢাকার অদূরে সাভারে ৩টি হত্যা ও কেরানীগঞ্জে ১টি হত্যাসহ মোট ৪টি হত্যা ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ভয়ংকর ৯ জন হত্যাকারীকে সাভার মডেল থানার বিচক্ষণ অফিসার ইনচার্জ এ এফ এম সায়েদের পরিচালনায় আটক করা হয়। বুধবার (১৭ এপ্রিল) সাভার মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা জানান ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম।

আশুলিয়ার পানধোয়া বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী মো: সিরাজুল ইসলামের ছেলে মহসিন খান কে ১৪ এপ্রিল রাত ৭টা ৩০ মিনিটে প্রকাশ্যেই কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। এর আগে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে দেয়া হয় নদীতে। ভাকুর্তার শ্যামপুর কুড়িগ্রামের মো: আব্দুল মজিদের ছেলে মতিউর রহমানকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এমনি কয়েকটি খুনের ঘটনায় যখন আতঙ্কিত সাভারের সাধারণ জনগণ, ঠিক এমনি সময়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও অসীম সাহসীকতায় একটি স্যান্ডেলের সূত্র ধরে এ ভয়ংকর হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ কিলিং স্কোয়াডের নয় (০৯) সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। রাজধানী থেকে শুরু করে সারা দেশে রয়েছে এই পেশাদার খুনী ও ছিনতাইকারী দলের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এরা কৌশলে সিএনজি, অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাড়ায় নিয়ে নির্জনস্থানে এনে চালককে খুন করে ছিনতাই করে যানবাহন।

বুধবারের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২ এপ্রিল সাভারের ভাকুর্তায় আ: মজিদের ছেলে মতিউর রহমান (৪০) কে খুন করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। এ সময় ঘটনাস্থলে পাওয়া যায় একটি স্যান্ডেল। এই স্যান্ডেলের মালিককে খুঁজতে গিয়ে হত্যার আসামীদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এরা হলো বগুড়ার ধুনট থানার সাতটিকরি গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে বকুল ওরফে ভুলু (১৮) ও রাজশাহীর পবি থানার দাদপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আবদুল্লাহ ওরফে তুষার (১৮)। এঘটনায় জড়িত আরেক আসামী পলাতক রাসেল বাবুকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

এর আগে গত ১১ মার্চ সাভারের ঝাউচর এলাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে অটো রিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় জড়িত আসামী রাজশাহীর আব্দুল্লাহ তুষারসহ রংপুরের গঙ্গাচরা থানার বড়মধর গ্রামের জসিমের ছেলে মিলন (৩৫)। মিলনকে গ্রেফতারের পর লুণ্ঠিত অটোরিক্সা ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এই দুষ্কৃতিকারীরাই গত ২৭ মার্চ কেরানীগঞ্জ থেকে জাকিরের রিক্সা ভাড়া করে তাকে চাকু দিয়ে খুন করে অটো রিক্সা নিয়ে যায়।

সর্বশেষ গত ১৪ এপ্রিল সাভার চৌরঙ্গী মার্কেটের সামনে সব্জি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলামের ছেলে মহসিন খান (২১) কে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায় ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা। এ অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় মানিকগঞ্জের কানারচর গ্রামের ইউসুফ মিয়ার ছেলে রতন (৩৫), ঢাকার সেনাইল গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে হারুন অর রশীদ (৪০), সিরাজগঞ্জের জামতলা গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে শান্ত (৩৫), সিরাজগঞ্জের জামসিং এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে শাওন (২৭) এবং ঢাকার ধামরাইল থানার সেনাইল গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে হারুন অর রশিদ(৪০)কে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃতরা সাভার ও আশুলিয়ার আশে-পাশের এলাকায় বাসা ভাড়া করে সারাদেশে পেশাদার খুনী ও ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিল। এদের কারণেই বিগত কয়েক মাস যাবৎ ঢাকা জেলার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি খুন ও ছিনতাই সংগঠিত হয়। এতে করে পুলিশের উদ্বেগ বেড়ে যায়।

এসময় পুলিশ সুপার আরও জানান, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রী বেশে বা নির্জন স্থান দেখে অটোরিক্সা চালককে জখম বা কখনো খুন করে ডাকাতি ও ছিনতাই করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. সাইদুর রহমান, সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ, ওসি (তদন্ত ) সওগাতুল আলম ও ঢাকা জেলার উত্তর ডিবি পুলিশের ওসি আবুল বাশার সহ অন্যানা কর্মকর্তাগন।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর