বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তিকৃত নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
এসময় আলোচনাসভা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেবা সম্বন্ধে ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন’ উপস্থাপন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, আজকে আমরা নতুন একটা জগতে অনুপ্রবেশ করলাম। যেটা স্কুল এবং কলেজ জীবন থেকে আলাদা। স্কুল কলেজে তোমাদের নির্ধারিত কোর্স কারিকুলামে লেখা-পড়া করতে হয়েছে। সেখানে তোমাদের ইনোভেশন এবং ক্রিয়েটিভিটির বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর সুযোগ সীমিত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় অসীম জায়গা। বিশ্বের ভেতরে বিশ্ব। মানব সভ্যতাকে প্রস্তর যুগ থেকে ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন পর্যন্ত যে অসামান্য প্রতিষ্ঠান গুলো মানুষকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়। তোমরা সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছো। সেই সুযোগ কে কাজে লাগাতে হবে।
ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা।
শাহিদা আখতার আশা এবং বনানী আফরিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন রাবির এমিরেটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষক, অভিভাবকদের অসংযত জীবনযাত্রা, অপ্রতুল প্রশিক্ষণ পরিবেশ এবং দুর্বল শিক্ষক আমাদের ছেলেমেয়েদের দুর্বল করছে। তাই তাদের অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়ে পড়াশুনা করেও ব্যর্থ হচ্ছে এবং বেদনা অনুভব করছে।
তাদের একটাই প্রশ্ন কি করলে সফল হতে পারব? তাদেরকে আমি বলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার বিষয়বস্তুকে আত্মস্থ করতে হবে অর্থাৎ গরু যেমন খেয়েদেয়ে পরে বিশ্রামের সময় জাবর কাটে, তেমনি যা শুনলাম তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। সেটি আমার শিক্ষক ছোটবেলায় আমাকে শিখিয়েছিলেন। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, অধ্যাপক ড. জাকারিয়া রহমান প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
পরে দুপুর ৩ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশিত হয়।
বার্তাবাজার/এমকে