নায়ক হব বলতেই জুতা খুলে রেডি বাবা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের আয়োজনে ১৯৮৮ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ ঢাকাই চলচ্চিত্রে নাম লেখান অমিত হাসান। কিন্তু ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ রেজিস্ট্রেশন করার টাকা পরিবার থেকে না পাওয়ায় তিনি হাউজি খেলার টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। বিষয়টি অমিত হাসান নিজেই জানিয়েছেন।

অমিত হাসান বলেন, আমি তখন টাঙ্গাইলে এইচএসসিতে পড়াশোনা করছি। ছাত্র অবস্থায় মঞ্চে অভিনয় করতাম। সে সময় থেকে অভিনয়ের প্রতি টান ছিল। কিন্তু নায়ক হব, তা নিয়ে ভাবিনি। ওই সময়ে নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এফডিসি। সে সময় আমার বন্ধুরা বলে নতুন মুখের রেজিস্ট্রেশন করতে। তাদের কথা মতো আমি রাজি হই। বাবাকে গিয়ে বলতে পা থেকে জুতা খুলে মারার জন্য রেডি, তখন আমি চলে যাই। পরে মাকে বলি তিনিও রাজি নন। তখন মন খারাপ করে আমি বের হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, বাবা-মা রাজি হলো না তখন রেজিস্ট্রেশন করার টাকা নেই। একপর্যায়ে নায়ক হওয়ার স্বপ্ন বাদ দিয়েছি। টাঙ্গাইলে তখন একটা প্রদর্শনী অনুষ্ঠান ছিল। সেই প্রদর্শনীর পাশেই হাউজি খেলা চলছিল। তখন জিজ্ঞেস করলাম এখনকার সিট কত? তখন তারা বলল ২০ টাকা। কাছে ২০ টাকায় ছিল। নিয়ে খেলা শুরু করলাম ওই সিটে ১ হাজার টাকা পেয়ে গেলা। ওই টাকা দিয়েই রেজিস্ট্রেশন করি। এরপর ঢাকায় এসে সিলেক্ট হয়। তখন বাবা-মাকে বলার পর রাজি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সম্পৃক্ত হন। ১৯৯০ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র চেতনা। ছবিটি পরিচালনা করেন ছটকু আহমেদ। একক নায়ক হিসেবে তিনি প্রথম অভিনয় করেন মনোয়ার খোকনের ‘জ্যোতি’ সিনেমায়। এ দশকে তিনি শেষ ঠিকানা, জিদ্দী, আবিদ হাসান বাদলের বিদ্রোহী প্রেমিক (১৯৯৬) ও তুমি শুধু তুমি (১৯৯৭), রাজ্জাকের বাবা কেন চাকর (১৯৯৭), শিল্পী চক্রবর্তীর রঙিন উজান ভাটি (১৯৯৭), মোতালেব হোসেনের ভালবাসার ঘর (১৯৯৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর