দাবানলের কবলে ববি’র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ!

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গতকাল শনিবার সকাল ১১.৩০ মিনিটে মাঠ পরিষ্কার কর্মসূচির নাম নিয়ে ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর নুরুর উদ্যোগে মাঠের আশেপাশের প্রায় অর্ধ-শত গাছ আগুনে পোড়ানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২০ আয়োজন করার উদ্দেশ্যে ঘাস কাটার নাম নিয়ে এ গাছ পোড়ানো হয়।

উক্ত কর্মকান্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

দেলোয়ার হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল গ্রুপ লিংকার্স বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রুপে লিখেছেন,” ববি ক্যাম্পাসে অস্ট্রেলিয়ান দাবানল দেখতে পেলাম। আছে দু চারটি বৃক্ষ, তাও নাকি গ্রীন ক্যাম্পাস! এখন তো মনে হচ্ছে শুধুই ধূসর আর ধূসর।”

আরেক শিক্ষার্থী এইচএম হাবিব লিখেছেন,”আমাদের নিশ্চুপ নিরাবতার কারণের এরা এতোটা অদ্ভট আচরণের সাহস পায়। কিভাবে সম্ভব হলো এরকম অবিবেচকের মতো কাজ করার? এদের এই ঘৃণিত কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।”

অভিযুক্ত ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর মো: নুর ইসলাম বলেন, “খেলার মাঠের ওই অংশে ঝোপঝাড় ছিল। পরিস্কার করতে গিয়ে আমাদের কর্মচারীরা ওখানে সাপ দেখতে পায়। তাই আগুন লাগিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। আমি একটি ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজটি করতে গিয়ে খারাপ হয়ে গেছে। কিছু চারাগাছ পুড়ে গেছে।এজন্য আমি আন্তঃরিক ভাবে দু:খিত।

তিনি আরো বলেন, ঝোড়ঝাড়ের মাঝে বল আনতে গিয়ে যদি সাপে কামড় খেত। তাহলে সেই দায় কে নিত? ৫, ১০,৫০ হাজার টাকার গাছ কি একটি জীবনের চেয়ে বড়।”

ঘাস কাটার দায়িক্ত প্রাপ্ত কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী এস্টেট অফিসার মো: সাইদুজ্জামান বলেন, “ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর নুরু আমাকে এই ব্যাপারে কিছু জানায় নি। তিনি নিজ উদ্যোগে আগুন দিয়েছেন।”

উল্লেখ্য যে, মালীর জন্য দায়িক্তপ্রাপ্ত ৮ জন ব্যাক্তি থাকলেও এস্টেট অফিসারের দপ্তরে মাত্র ৩ জন আছে এবং বাকি ৫ জনের ২ জন মাননীয় উপাচার্যের দপ্তরে, ২ জন সিকিউরিটি শাখায়, ১ জন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে কর্মরত।

এস্টেট শাখা দপ্তর কর্তৃক জানা যায়, কর্মরত ৩ জন ঠিকমত কাজ করেন না। উপাচার্য মহোদয়ের আদেশ পেলেই তারা কাজের জন্য সোচ্চার হয়। এছাড়া এর আগেও তারা মাঠে ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত জুন- জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে বিশ্ববিদ্যালয় সবুজায়নে সহস্রাধিক বৃক্ষ রোপণ করে। শিক্ষার্থীদের লাগানো গাছগুলো এমন হালায় পোড়ানোয় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর