ফিলিপাইনে করোনভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তাকে চীনের বাইরে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গতকাল শনিবার তিনি মারা গেছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনকোয়ারারের খবরে বলা হয়।
আজ রোববার ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়,ম্যানিলার স্যান লাজারো হাসপাতালে সপ্তাহখানেক চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শনিবার চীনা ওই রোগী মারা যান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৫ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানান, করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহর থেকে ওই ব্যক্তি গত ২১ জানুয়ারি ফিলিপাইনে আসেন। তার সঙ্গে ৩৮ বছর বয়সী এক নারীও এসেছেন যিনি এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য সচিব ফ্রান্সিসকো ডিউক বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মারাত্মক পর্যায়ের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন ওই রোগী। শেষ কয়েকদিনে তার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটেছিল এবং উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তবে রোগীর অবস্থা শেষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খারাপ হয়ে যায়, যার ফলে তার মৃত্যু হয়।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই চীনা নাগরিকের মৃত্যুর ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টা আগে চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ের নাগরিকদের ফিলিপাইনে ঢোকার বিষয়ে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ফিলিপাইন সরকার। স্বাস্থ্য সচিব ডিউক জানান, করোনভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ফিলিপাইনে ২৩ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর চীনের সীমানা পেরিয়ে এই ভাইরাস বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ পর্যন্ত চীন, থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, হংকং, সিঙ্গাপুর, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাইওয়ানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বার্তাবাজার/এমকে