আজ ভাষা সৈনিক ও কবি মুফাখখারুল ইসলামের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ ২ ফ্রেব্রুয়ারি রবিবার ভাষা সৈনিক, কবি ও প্রাবন্ধিক মুফাখখারুল ইসলামের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৭ সালের এই দিনে দীর্ঘ রোগভোগের পর ৮৬ বছর বয়সে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

১৯২১ সালের ৩০ এপ্রিল টাংগাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার নরপাড়া গ্রামে তার জন্ম। তার পিতা মৌলভী ময়েজ উদ্দিন ওয়ায়সি গ্রামের মসজিদের খতিব ছিলেন। তার মাতার নাম নাজিরুন্নিসা ওয়ায়সি। কবির পিতা সাহিত্যানুরাগী ছিলেন। বিষাদসিন্ধু ও আরব্যন্যাস পাঠের জন্য তাকে গ্রামে গ্রামে নিমন্ত্রণ করা হত।

শিশু কবিকে তিনি কবিতা মুখস্ত করাতেন। এভাবেই শিশু কালেই মুফাখখারুলের মনে সাহিত্যেপ্রীতি জাগ্রত হয়।
উপজেলার হরিপুর প্রাইমারি স্কুল শেষে ১৯৪০ সালে টাংগাইল সদরের বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে ভর্তি হন করটিয়া সাদত কলেজে। সু সাহিত্যিক ইব্রাহীম খাঁ তখন কলেজ অধ্যক্ষ। ইব্রাহীম খাঁ সাহেবের চেষ্টায় করটিয়াতে সে সময় গড়ে উঠে মহুয়া মজলিশ ও মাসিক শাহারা।

ছাত্রাবস্থায় করটিয়ার এ পরিবেশে তিনি কবিতা চর্চায় আত্মনিয়োজিত হয়ে পড়েন। পরে ১৯৪৯ সালে মুফাখখারুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম এ পাশ করেন। মুফাখখারুল ইসলামের উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত কবিতা গ্রন্থঃ হে পাক ফৌজ (১৯৪৮), নাটকঃ মুরশিদ (১৯৫১), আর্তনাদ (১৯৫৮), আশ্রিত (১৯৫৯), ঈদের খুশী (১৯৭০), বয়াতি (১৯৭০), হকীম বু আলী সীনা সলেমান আরসাল, হেনা, আদহাম আশিক, আল্লাহর মর্জি, কিশোর নাটকঃ ইনাম পরখ, বড় ঈদ, প্রহরী পুত্র ও মজনু ফকির। উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধঃ ভাষা ও রচনারীতি, আল্লাহকে দেখা যায়, ইসলাম পথের বাধা, ইতিহাসের ফাক ও ফাঁকি, ইতিহাসগত বিভ্রান্তির রহস্য।

মুফাখখারুল ইসলামের কবিতা বিশেষত মাসিক মুহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হত। কবি ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান এবং এক ধরনের সাধন। তার দিদার ই ইলাহী (আল্লাহকে দেখা যায়) গ্রন্থটি বিতর্কিত এবং বিখ্যাত।

ইসলামী ভাবধারার এ মরমী কবি সম্পর্কে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি মরহুম রফিক আজাদ বলেছিলেন তার দ্বারা দেশ, জাতি, ব্যক্তি কিংবা কোন প্রাণীকূলের বিন্দুমাত্র ক্ষতি সাধিত হয়নি এটাই মুফাখখারুল ইসলামের বিশিষ্টতা, নিজস্বতা, একাগ্রতা এবং আধ্যাত্মিকতা।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর