আজ সারাদিন অনুষ্ঠিত দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন জায়গায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ঢাকা দক্ষিণের একটি ওয়ার্ডে।
আজ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলাকালে দক্ষিণের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি।
বিকালে লালবাগ মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রের সামনের চত্বরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়।
এই কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঠেলা গাড়ী প্রতীকের মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ, বিদ্রোহী কুমড়া প্রতীকের হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন মিয়া এবং বিএনপি সমর্থিত ঘুড়ি প্রতীকের মো. মোশাররফ হোসেন খোকন।
পুরান ঢাকার আরএনডি রোড, শহীদ নগর ও জগন্নাথ সাহা রোডের একাংশ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে ভোটার আছেন ৪৩ হাজার ৩৭৮ জন।
সকাল থেকে তিন কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা লালবাগ মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রের সামনে জড়ো হন। ভোটের ফল কী হবে তা নিয়ে সবার মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও সারা দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। বরং সময় যত গড়িয়েছে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতির প্রকাশ দেখা গেছে।
ভোট শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত জাহিদ বলেন, “আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ফলাফল যাই হোক মেনে নেব।”
খোকন ও দেলোয়ারও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। তবে ফলাফল যা-ই হোক মেনে নেবেন বলে জানান তারা।
ভোট শেষে বিকাল ৪টার পরে কেন্দ্রের বাইরে কিছুটা উত্তেজনা দেখা গেলে তিন প্রার্থী স্কুলের ফটকের সামনে গিয়ে সমর্থকদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তারা তিনজন একই বেঞ্চে বসে আছেন এবং ফলাফল যা-ই হোক মেনে নেবেন জানিয়ে কর্মী-সমর্থকদের কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি না করার আহ্বান জানান এই প্রার্থীরা।
খোকন বলেন, “নির্বাচনে একজন পাস করবে। তবে এলাকার উন্নয়নে তিনজনে একসাথে আমরা কাজ করব।”
ঐ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই অমিতাব পাল বলেন, “সারা দিন শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ ভোট দিতে এসেছেন। সার্বক্ষণিক কেন্দ্রের বাইরে সমর্থকরা জড়ো হয়ে থাকলেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি এবং ফলাফলের পরেও হবে না বলে আশা করছি।”
বার্তা বাজার/শআজু