চীনের উহান শহর থেকে টেলিফোনে ডয়চে ভেলে বাংলাকে এ কথা জানিয়েছেন সেখানে অধ্যয়নরত মো. আবির শাহীদ চৌধুরী।
সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্ম ‘উইচ্যাট’-এর একটি গ্রুপে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যু্ক্ত আছেন। সেই গ্রুপে চীনে বাংলাদেশের দূতাবাসের কোনো কোনো কর্মকর্তাও আছেন।
তবে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা আতঙ্ক আছে বলে জানান, তিনি বলেন. ‘অনেক খবরে যেভাবে আতঙ্কের কথা বলা হচ্ছে সেভাবে হয়তো আতঙ্কিত হবার কিছু নেই৷ তবে আতঙ্ক তো কিছুটা আছেই ৷ বিশেষ করে যারা পরিবার নিয়ে থাকেন এবং পরিবারে শিশু আছে, তাদের ঝুঁকিও বেশি, আতঙ্কও বেশি ৷’
তাদের দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, দূতাবাস চেষ্টা করছে। ‘অ্যাম্বেসি স্টুডেনটদের তালিকা করে নিয়েছে৷ এদের মধ্যে যারা ফিরে যেতে চান তাদেরও তালিকা করা হয়েছে,’ জানান তিনি৷ আবির বলেন, ‘দূতাবাস সাধ্যমত চেষ্টা করছে৷ তবে শুধু তারা চাইলে হবে না৷ চাইনিজ সরকারকেও চাইতে হবে৷ দুপক্ষের সম্মতিতে হতে হবে ৷ সময় লাগতেও পারে৷’ তাই কবে দেশে ফেরত যাওয়া যাবে তা জানতে পারেননি তিনি।
উহান শহর পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে আবির বলেন, ২২শে জানুয়ারি থেকে কেউ এখানে আসতে বা এখান থেকে যেতে পারছে না ৷ স্থানীয়ভাবে একটি বিশেষ হটলাইনের ব্যবস্থা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি বিষয়ে আমি যোগাযোগ করেছিলাম ৷ তখন ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে আমাকে হটলাইনে জানানো হয়েছে, তোমার অ্যাম্বেসি থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে ৷ ট্রান্সপোর্টেশন তোমাদের ম্যানেজ করতে হবে৷’
তবে খাবার সংকট বা ভুতুড়ে পরিবেশের বিষয়ে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা পুরোপুরি সঠিক নয় ৷ ‘চংপাই নামের একটি সুপারশপ খোলা রাখা হয়েছে সরকারি নির্দেশে ৷ আমার এলাকায় আরো দু’একটি খোলা আছে ৷ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যান্টিনগুলো খোলা রাখা হয়েছে৷ সেখানে কোথাও দু’বেলা, কোথাও তিন বেলা খাবার পাওয়া যাচ্ছে,’ আবির ব্যাখা করেন ৷
শহরের পরিবহণব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে জানিয়ে আবির বলেন, তবে কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য বিশেষ ট্যাক্সি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷
আবির ২০১৪ সেপ্টেম্বর থেকে চীনে রয়েছেন৷ উহানে চায়না ইউনিভার্সিটি অফ জিওসায়েন্স পিএইচডি করছেন তিনি৷ ‘উহানকে সিটি অফ এডুকেশন বলতে পারেন৷ আনুমানিক পাঁচশ’ বাংলাদেশি স্টুডেন্ট এখানে আছে৷ তারা ব্যাচলর, মাস্টার্স, পিএইচডি, পোস্টডক করছেন,’ বলেন আবির৷
বার্তাবাজার/কে.জে.পি