কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলায় চর যাত্রাপুর ইউনিয়নে অর্ধশত ভারতের মৃত গরু বাংলাদেশের সীমান্তের নদীতে ভাসতে দেখা যায়।এদের সবগুলোর পা বাধা এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভবে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা গরু। কয়েকদিন ধরে উজান থেকে ভেসে আসা অসংখ্য গরুর লাশের দূর্গন্ধের সৃষ্টি করায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন পরিবেশ দূষণ এড়াতে মাটিতে পুঁতে রাখছেন।তবে গরু পাচার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম নদ-নদীবেস্টিত হওয়ায় ভারতের সাথে যোগাযোগের অন্যতম পথ হিসেবে নদীকে ব্যবহার করে কুড়িগ্রামবাসী। সেই সুযোগে চোরাচালানকারীদের নিয়মিত পথ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার চর যাত্রাপুর ঘাট এলাকায় অর্ধশতাধিক পা বাধা গরুর লাশ উজান থেকে স্রোতে ভেসে এসে চরে আটকা পরেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদুল হক(৩৫) বলেন, আমরা প্রায় দেখি মরা গরু ভেসে আসতে,পা বাধা অবস্থায় ভারত থেকে দেশে পাচারের সময় মারা যেতে পারে বলে মনে হচ্ছে। আগামীকাল(শনিবার) এখানে হাট বসবে, তাই আজ রাতেও গরু পাচার হতে পারে।
স্থানীয় ঘাটের এক মাঝি ফয়সাল খন্দকার জানান, “পাচার করার সময় তীব্র ঠান্ডায় এসব গরু মারা গেছে। এই ঘাটের চেয়ে উজানে এর সংখ্যা বেশি। এতে আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে,দুর্গন্ধে ঘাটে আসা যায়না।”
ঘাটের এক দোকানদার মো. সাইদুর রহমান জানান, প্রায় ১মাস থেকে কম সংখ্যক মরা গরু ভেসে আসলেও প্রায় এক সপ্তাহ থেকে এর সংখ্যা অনেকাংশে বাড়েছে।এর আগের গুলো বেশি স্রোতে ভেসে গেছে।স্রোত কমায় পরশু ও কালকের মৃত গরুগুলো আটকে আছে। সরকারের কাছ এগুলোকে স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
এব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন,”গরু গুলোকে পা বেঁধে রাখা আইন বিরোধী কাজ। পরিবেশ দূষণ রোধে ভেসে আসা মারা যাওয়া গরুগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে।” চর যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার বলেন,স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই অবস্থার সমাধান সম্ভব নয়,গরু পাচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে আমাদের।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস