ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বিরুদ্ধে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ওঠার পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্ত ৭ সদস্যকে ডিবি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন- এসআই সৈয়দ মাহমুদুল ইসলাম, এএসআই ফরহাদ আলী, কনস্টেবল মো. রাজিব আহমেদ, মো. সুমন, মো. আব্দুর জব্বার, মো. রাসেল ও মো. মুজাম্মেল হোসেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে প্রত্যাহার হওয়া ডিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মো. সোহেল। কালিগঞ্জে তার কাপড়ের দোকান রয়েছে। চুনকুটিয়া নাজিরেরবাগ এলাকায় তার বাড়ি।
সোহেলের ছোট বোন রাজিয়া জানান, গত বুধবার বিকালে ডিবি পুলিশের একটি দল সাদা পোশাকে কালিগঞ্জের দোকান থেকে সোহেলকে আটক করে। এরপর তাকে লুটেরচর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায়।
একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয় ডিবির সদস্যরা। শেষে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় রফাদফা হয়। এরপর তারা টাকা নিয়ে ডিবি সদস্যদের হাতে তুলে দিলে সোহেলকে ছেড়ে দেয় তারা।
রাজিয়া জানান, তার ভাই কোনো অপরাধী নন। টাকার জন্যই সোহেলকে আটক করেছিল ডিবি। এ ঘটনা নিয়ে ডিবির সদস্য ও তাদের কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও রয়েছে বলে দাবি করেন রাজিয়া।
এ ঘটনায় পরদিন (বৃহস্পতিবার) পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মো. সোহেল। ওই দিনই পুলিশ সুপার ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন ডিবি (দক্ষিণ) এর ওসি নজরুল ইসলামকে।
ডিবি (দক্ষিণ) ওসি নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবারই পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেন তিনি। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই দিনই ডিবির ৭ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
ওসি আরও জানান, বুধবার সোহেলকে আটক করা হয়। এরপর তাকে ছেড়েও দেয়া হয়। কিন্তু ঘটনাটি তাকে জানানো হয়নি।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস