কোচিং না করায় স্কুল থেকে বিদায় সংবর্ধনা দেননি প্রধান শিক্ষক

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বাহাদুরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কোচিং না করার কারণে বিদায় সংবর্ধনা দেয়নি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মোকাররম ইসলাম।

এমনকি পরীক্ষার্থীরা নিজেরাই বিদ্যালয়ের জন্য সেলিং ফ্যান এবং তাদের জুনিয়রদের জন্য বিদায় উপলক্ষে তোবারক নিয়ে গেলেও সেটি নিতে দেওয়া হয়নি। উল্টো স্কুলে কোচিং না করার জন্য সবার সামনেই ওই শিক্ষার্থীদের অপমান করেন প্রধান শিক্ষক। এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন বীরগঞ্জের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বাহাদুরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ জন এসএসসি শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বাহাদুরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী মোছা. সোনা মনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে কোচিং না করার কারণে আমাদের বিদায় দেবে না বলে জানিয়েছেন আমাদের প্রধান শিক্ষক। আমরা সেটাও মেনে নিয়েছি।

কিন্তু স্যাররা আমাদের ৫ বছর পড়িয়েছেন তাদের জন্য আমরা সেলিং ফ্যান গিফট ও আমাদের জুনিয়র বোনদের জন্য মিষ্টি নিয়ে স্যারদের কাছে যাই, স্যার আমাদের জুনিয়র বোনদের ডেকে এনে তাদের সামনে বলেন, তোমরা আমাদের কাছে কোচিং করো নাই, আমরা তোমাদের গিফট এবং তোবারক নিতে পারবো না। তারপর আমরা কোচিং না করার কারণে ভুল শিকার করলেও স্যার আমাদের কথা শুনেননি। পরে আমরা ফ্যান আর তোবারক গুলো মসজিদে দিয়ে দিছি।’

আরেক এসএসসি পরীক্ষার্থী মোছা. আয়শা সিদ্দিকা বলেন, ‘আমরা মোট ১৮ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী গত ২৫ জানুয়ারি বিদ্যালয়ে ফ্যান আর তোবারক নিয়ে গেছিলাম, কিন্তু স্যার আমাদের ফ্যান তো নেয়ইনি সাথে তোবারক গুলো ছোট বোনদের দিতে দেয়নি।’

কোচিং করেনি বলে ১৮ জন পরীক্ষার্থীকে স্কুল থেকে বিদায় না দেওয়ার বিষয়টি গত দু’দিন ধরে জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় অভিভাবকদের মধ্যে। এসএসসি পরীক্ষার্থী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আলতাফুর রহমান বলেন, ‘আমার মেয়েকে কোথায় কোচিং করাবো সেই সিদ্ধান্ত তো প্রধান শিক্ষক নিতে পারে না।

তারা তো ফ্রি কোচিং করাবে না। টাকা দিয়েই যখন কোচিং করাবো তখন আমাদের মেয়েরা যেখানে ভালো শিখতে পারবে সেখানেই পড়াবো। এজন্য স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষক বিদায় না দিয়ে এসব কোমলমতি মেয়েদের উল্টো অপমান করেছে। এতে শিক্ষার্থীরা মনে ভীষণ আঘাত পেয়েছে।’

ওই এলাকার আরেক অভিভাবক আশরাফ আলী বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদ্যালয় চলাকালীন কোচিং করায়। বিদ্যালয় চলাকালীন কোচিং করার কোন নীতিমালা আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে কোচিং যেখানেই করুক, একজন শিক্ষার্থীর স্কুল জীবনের শেষ স্মৃতি বিদায় অনুষ্ঠানের দিনটাই। সেটাও প্রধান শিক্ষক করতে দেয়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক! মেয়ে গুলো খুবই কষ্ট পেয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মিস্টার আলী বলেন, ‘বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের। কিন্তু কেনো তারা করেনি সেটা আমি জানিনা।

বাহাদুরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোকাররম ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম আমাদের এখানে কোচিং বা অতিরিক্ত ক্লাস করলে ভালো রেজাল্ট হবে। কিন্তু তারা সেটা করেনি দেখে আমরা বিদায় দেই নাই।’

কোমলমতি এসব শিশুদের মানসিক বিকাশে স্কুলের শেষ দিনে এরকম আচরণ করা কতটা যৌক্তিক জানতে চাইলে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সত্যি হলে খুবই দুঃখজনক। যদিও এরকম কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তারপরেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর