ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে মুখোমুখি দেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি দুই দল।
নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই। স্থানীয় নির্বাচনে হলেও ঢাকায় প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে মুখোমুখি দুই দল। ইশতেহারে নগরের সমস্যা ও সমাধানের বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হলেও প্রচারণায় গুরুত্ব পেয়েছে জাতীয় ইস্যু।
নির্বাচনে জয় পেতে সাধারণ জনগণের মুখোমুখি প্রার্থীরা। প্রচারণায় বড় অংশ জুড়ে ছিল জাতীয় রাজনীতি। এক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল বিএনপি। দলের দুই প্রার্থীই গুরুত্ব দিয়েছেন তাদের জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুকেই।
ঢাকা উত্তর সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল নির্বাচনি প্রচারণায় বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে অবৈধভাবে কারাগারে রেখেছে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।’
বিএনপির আরেক মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন প্রচারণায় বলেন, ‘আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনার মাধ্যমে দেশনেত্রীকে কারাগার থেকে মুক্ত করব। সেখান থেকেই এই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।’
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা উভয় দলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা বললেও প্রতিদ্বন্দ্বিদের ওপর নাগরিক সুবিধার চেয়ে রাজনৈতিক বিষয়কে প্রচারে টেনে আনার অভিযোগ করেছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘অন্যন্য প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা যে সব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাতে ঢাকাবাসীর জন্য কোনো রূপরেখা নেই, তারা জাতীয় রাজনীতির একটি কৌশল হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।’ আওয়ামী লীগের আরেক মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাওচনি প্রচারণায় হাজার হাজার জনতা দলমত নির্বিশেষে সবাই মাঠে নেমেছে।’
স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় ইস্যু প্রচারণায় স্থান করে নেয়াকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না বিশ্লেষকরা।
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘যেহেতু এবার দলীয় পরিচিতির মাধ্যমে নির্বাচন হচ্ছে, তাই দলীয় বক্তব্য কোনো না কোনো ভাবে চলে আসবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তাদের দলের পক্ষে কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। আবার একইভাবে বিএনপি আওয়ামী লীগের সময়ের যে ব্যার্থতাগুলো উপস্থাপন করার চেষ্টা করবে।’ তবে, কেন্দ্রীয় সরকার মেয়রদের ওপর আস্থাশীল না হওয়া পর্যন্ত তাদের পক্ষে কোনো কাজই করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন মোবাশ্বের হোসেন।
জাতীয় ইস্যু ছাড়াও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে নগর সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রার্থীদের গুরুত্ব দেয়ার কথাও বলেন তিনি। যারা মেয়র নির্বাচিত হবেন তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে বক্তব্য যতই দিক না কেন দুই মেয়রকেই আমি অনুরোধ করব তারা যেন এই মুহূর্তে জনগণ এবং রাজনীতির মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি না করে জনগণের সেবার দিকে এগিয়ে যায়।’ যে দল থেকেই মেয়র নির্বাচিত হোক না কেন অন্তত আগামী পাঁচ বছর তাদের অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মোবাশ্বের হোসেন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি