দিনাজপুরে বেড়েছে ভুট্টার চাষ, অর্ধেকে নেমেছে গমের চাষ

উত্তরের জেলা দিনাজপুর শষ্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত সবার কাছে। ধান, গম, ভুট্টা, পাটসহ বিভিন্ন ফল আর ফসলের সমাহার দিনাজপুর। তবে ধানের পাশাপাশি ভুট্টার চাষাবাদ কয়েকগুণ বাড়লেও এই জেলায় গত কয়েক বছরে ব্যাপকহারে কমেছে গমের চাষবাদ।

দিনাজপুরের কৃষকরা বলছেন, ভুট্টা চাষে একদিকে যেমন লাভ বেশি অপর দিকে গত কয়েক বছরে গম চাষের উপযোগি আবহাওয়া না থাকায় গম চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন অনেকেই।

রবি মৌসুমের ফসল গম এবং নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জমিতে গম চাষ করা হয়। মার্চ মাসের শেষ দিকে গম জমি থেকে ঘরে তোলার কাজ করে কৃষকরা। অপরদিকে ভুট্টা সারাবছরই চাষযোগ্য ফসল। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সারাবছর ভুট্টা চাষ করতে দেখা যায় কৃষকদের।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে জেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫ হাজার ৬২০ হেক্টর। সেখানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। অপরদিকে ২০১৭ সালে জেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হাজার ৭২৫ হেক্টর। অর্জিত মাত্রা হলো প্রায় ৬১ হাজার হেক্টর।

২০১৮ সালে জেলায় গমের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪ হাজার ৭৮০ হেক্টর সেখানে অর্জিত হয়েছে মাত্র ১০ হাজার ৩৭২ হেক্টর। আবার ২০১৮ সালে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হাজার ৮৯০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে প্রায় ৬২ হাজার হেক্টর। চলতি বছরে জেলায় গমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর সেখানে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর। একই মৌসুমে ভুট্টা চাষ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে।

গম চাষের কমতির কথা জানিয়ে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, গম চাষের চাহিদা কৃষকদের কমার অন্যতম কারণ হলো আবহাওয়া ও লভ্যাংশের পরিমাণ ভুট্টার তুলনায় কম। দিনাজপুরের বর্তমান আবহাওয়া ভুট্টা চাষের উপযোগি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষের দিকেই বেশি ঝুকছেন। আবার গম সাধারণত জমির উপরিভাগের সার শোষণ করে এক্ষেত্রে ভুট্টা জমির নিচের অংশের সার শোষণ করে। গম চাষ করলে পরবর্তীতে ওই জমিতে অন্য ফসল ফলাতে সার বেশি লাগে। আবার ভুট্টা চাষ করলে জমিতে কম সার লাগে। এজন্যই ভুট্টা চাষের দিকে কৃষকরা বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের কৃষক মো. মাইজার রহমান বলেন,‘ আমি গত কয়েক বছর আগেও প্রায় দেড় একর জমিতে গম চাষ করতাম। কিন্তু গম চাষের থেকে ভুট্টাতে লাভ বেশি এবং ফলন ভালো হওয়ায় এখন সেই জমি গুলোতে গমের পরিবর্তে ভুট্টাই চাষাবাদ করি।’

সদর উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার এলাকার কৃষক মো. রায়হান ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এদিকে অনেকেই কয়েক বছর আগে গম চাষ করতেন। বর্তমানে গমের চাষের পরিবর্তে মানুষ ভুট্টা চাষের দিকেই বেশি ঝুকছে। কারণ ভুট্টা চাষের ফলন ও লাভ দুটোই ভালো থাকায় আমরাও গমের পরিবর্তে ভুট্টাই চাষ করছি।’

জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার ঘুঘরাতলী এলাকার কৃষক ময়নদ্দিন বলেন,‘ ভুট্টাতে সময় ও শ্রম কম লাগে। আবার ভুট্টার দাম এবং গাছও বিক্রি হয়। এজন্য ভুট্টা চাষ করাটাই আমাদের মত কৃষকদের জন্য উপকারী।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তৌহিদুল ইকবাল বলেন, ‘দিনাজপুরে গত কয়েক বছরে গমের চাষ কমেছে।

যেমন গম চাষ কমেছে তেমনই এই জেলায় বেড়েছে ভুট্টার চাষবাদ। তিনি বলেন, দিনাজপুরের আবহাওয়া গম চাষের জন্য উপযোগি ছিল না। গম চাষের জন্য বেশি শীতের প্রয়োজন পড়ে কিন্তু দিনাজপুরে বেশ কয়েক বছর ধরে এমন শীত না হওয়ায় গম চাষের ভালো ফলন পাননি কৃষকরা। তাই গম চাষীরা গমের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অপরদিকে ভুট্টা চাষের জন্য দিনাজপুরের মাটি বেশ উপযোগি এবং দাম ও ফলন ভালো পাওয়ায় চাষিরা ভুট্টার চাষের দিকেই ঝুকছে।’

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর