বাইক শোডাউন দিয়ে সভাপতির প্রতি অনাস্থা জাবি ছাত্রলীগের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার উপর অনাস্থা জানিয়ে বাইক শোডাউন দিয়েছে সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা সংগঠনের অচলাবস্থা নিরসন ও নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট এলাকা থেকে শোডাউন শুরু করে আবাসিক হলসমূহ ও ক্যাম্পাস গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করেন তারা।

শোডাউনে নেতাকর্মীরা বলেন, এখন থেকে তারা সভাপতিকে বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের নিয়মিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। এছাড়া নতুন কমিটির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিবেন।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি মেয়াদ ২ বছর আগেই শেষ হয়েছে। ক্ষোভ, হতাশা আর রাজনৈতিক কোন্দলে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন অনেক শীর্ষ নেতা। তাছাড়া নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে কয়েকবার। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদত্যাগ করেছে ৩ মাস আগে। এছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত। অন্য সিনিয়র নেতারাও রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয়।

এ বিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পঙ্কজ দাস বলেন, “ক্যাম্পাসে তিন আগে সাধারণ সম্পাদক পদত্যাগ করেছে। সভাপতিও ক্যাম্পাসে অবস্থান করে না। তিনি সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনির বাসায় থেকে ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার এই একনায়কত্ব আমরা মানি না। ফলে আমরা কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা ছাত্রলীগের এই অচলাবস্থা নিরসনের জন্য সভাপতিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। ক্যাম্পাস ছাত্রলীগকে গতিশীল করার জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ।”

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফফান হোসেন আপন বলেন, “বর্তমান সভাপতির সাথে আমরা আর কোন প্রকার কাজ করতে চাচ্ছি না। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত আমরা সভাপতি ছাড়াই জাবি ছাত্রলীগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।”

এদিকে দুপুরে বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রক্টরের সাথে দেখা করতে যান বিদ্রোহীরা নেতাকর্মীরা। এসময় প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের সাথে আসেন জাবি ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনি। এক পর্যায়ে জনি বিদ্রোহীদের ‘জামাত-শিবির ও গুটিবাজ’ হিসেবে মন্তব্য করে পুলিশে দেয়ার কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন ছাত্রলীগের একাধিক পদধারী নেতা। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে জনিকে গালিগালাজ করেন ঐ নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়।
এসময় ৪১ ব্যাচের সিনিয়র নেতারা জনির কাছে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাখা ছাত্রলীগের এক সহসভাপতি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে নিজের ‘পকেটস্থ’ করে রেখেছেন মাহমুদুর রহমান জনি। সাংগঠনিক কোন কাঠামোতে মনোযোগ না দিয়ে শাখা ছাত্রলীগকে ভিসিলীগে রুপান্তরিত করেছেন। শিক্ষকদের উপর হামলার মত ন্যক্কারজনক কাজেও জনির হাত রয়েছে। এখান থেকে ছাত্রলীগ বের হতে না পারলে সংগঠন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এ বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনিকে ফোন দেওয়া হলে প্রথমবার ফোন খোলা পাওয়া যায় কিন্তু পরবর্তীতে তোর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোনে পাওয়া য়ায় নি।

এর আগে হল ভ্যাকেন্টের সময় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানাকে ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় সচলের দাবিতে ছাত্রলীগের জেষ্ঠ্য নেতারা উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে যান।

মূলত পাঁচ নভেম্বর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের এক পক্ষের হামলা, সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ, সম্পাদক পদ নিয়ে নতুন মেরুকরণ, মেয়াদউত্তীর্ন কমিটি, হল কমিটি না থাকা, যে কোন সংকটময় মূহুর্তে সভাপতিকে পাশে না পাওয়া এবং জুয়েল রানার উপর জনির হস্তক্ষেপ- এর কারণেই বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন ছাত্রলীগ নেতা- কর্মীরা। সহ- সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদধারী একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এসব বিষয় জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ছাত্রলীগ টাকার ভাগ পেয়েছে- এমন গুঞ্জন উঠার আগেই সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল ক্যাম্পাস ছাড়েন। এরপর থেকে তিনি আর শাখা ছাত্রলীগের সাথে সেভাবে যোগাযোগ রাখেননি। এমন সংকটময় মুহুর্তে সব সামাল দিতে বেশ হিমশিম খেতে হয় জুয়েল রানাকে। সর্বশেষ নভেম্বরের শুরুর দিকে পদত্যাগ করেন চঞ্চল। এতে অনেকটা একা হয়ে পড়েছেন জুয়েল।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মো. জুয়েল রানাকে সভাপতি এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলকে সাধারণ সম্পাদক করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। পরের বছরের ২৮ এপ্রিল ২১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়। এক বছর মেয়াদি সেই কমিটি এরই মধ্যে পার করেছে তিন বছর

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর