নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে বিশ্বমানের উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান বাংলাদেশ কংগ্রেসের মেয়র পদপ্রার্থী ‘ডাব’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী মোঃ আক্তারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ।
আজ ৩০ জানুয়ারী বাংলাদেশ কংগ্রেসের বাংলামটরস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি তার নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি সিটি করপোরেশনের আভ্যন্তরীণ সকল দুর্নীতি ও অনিয়ম দুরীকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবেন এবং নাগরিকদের শতভাগ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে আইন সংষ্কারসহ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
তিনি শহরের প্রতিটি রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে উচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত দূর্গন্ধমুক্ত ডাস্টবিন স্থাপন করতে চান এবং নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও ময়লা-আবর্জনা ফেলাকে নিরুৎসাহিত করবেন। এছাড়াও তিনি বর্জ্য ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করতে চান।
তিনি বলেন সরকারী, আধা সরকারী ও শায়ত্ব শাসিত কোন ভবনে, দেয়ালে ও বৈদ্যুতিক খুটিতে লিখন, পোস্টারিং ও বিলবোর্ড বা ফেস্টুন স্থাপন নিষিদ্ধ করতে হবে এবং সকল ধরণের রাস্তা ও ভবনকে পরিপাটি রাখার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। প্রতি বছর প্রতিটি ভবন পরীক্ষা করা হবে এবং ঝুকিপূর্ণ ভবন সংষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের নির্দেশ দেয়া হবে। আবাসিক এলাকায় গুদাম ও কারখানা স্থাপন বন্ধ করতে বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।
ইস্তেহারে তিনি কম্পিউটারের মাধ্যমে অবগত হয়ে দূর্ঘটনা ও অগ্নিকান্ডস্থলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘটনা স্থলে সেবাদানকারী সংস্থাকে পৌছানো নিশ্চিত করা এবং দ্রুত অগ্নিনির্বাপনের জন্য স্থানীয়ভাবে পৃথক পানির লাইনসহ হাইড্রেন্ট পয়েন্ট স্থাপন করার অঙ্গীকার করেন।
নির্বাচিত হলে যানযট ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাসমুহের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করা হবে এবং সহজলভ্য চলাচলের জন্য সিটি করপোরেশনের নিজস্ব বাস সেবা চালু করা হবে মর্মে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। তিনি বলেন, রিক্সা ও মটর সাইকেলসহ যাবতীয় যান চলাচল সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ণ করা হবে। বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ সকল ধরণের যানবাহনের অবস্থানের জন্য আধুনিক ও নিরাপদ টার্মিনাল স্থাপন করা হবে এবং বিরাজমান টার্মিনালগুলো উন্নত ও চাঁদাবাজমুক্ত করা
হবে মর্মে তিনি ইস্তেহারে বলেন।
ফুটপাতগুলোকে হাটাচলাচলের উপযোগী করা হবে এবং সড়কের দুপাশে যানবাহন পার্কিং ও হকার বসানো পুরোপুরী বন্ধ করা হবে মর্মে বলেন। তিনি বলেন এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে স্বল্প ভাড়ার মার্কেট স্থাপন করা হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচিত হলে নাগরিকদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, জ্বালানী, নিরাপত্তা, পানি, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও বিনোদনসহ যাবতীয় সেবা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে।
নাগরিক সেবা প্রদানে নিয়োজিত মন্ত্রনালয় ও সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিক জীবনের যাবতীয় সদস্যা দূরীভূত করা হবে।
প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক গণশৌচাগার, ডে-কেয়ার সেন্টার, ব্যায়ামাগার ও বিনোদণকেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং পার্ক ও খেলারমাঠ গুলোকে অশ্লিলতামুক্ত ও নিরাপদ করা হবে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভবঘুরে কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে রাস্তা, পার্ক, মসজিদ ও মাজারে ছিন্নমূল লোকদের অবস্থান দুরীভূত করা হবে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব গাড়ীতে এসকল লোকদের বহন করে ভবঘুরে কেন্দ্রে নেয়া হবে। তিনি অঙ্গীকার করেন, বুড়িগঙ্গা নদী ও নগরীর বিভিন্ন খাল দখলমুক্ত করে শোভাবর্দ্ধন করা হবে এবং বেদখল হওয়া সকল জায়গা ও স্থাপনা দখলমুক্ত করে পরিবেশ উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। পরিবেশ, শব্দ ও বায়ূদূষণ এবং মশা-মাছির বিস্তাররোধে যথাযথ পদক্ষেপ
গ্রহন করা হবে।
নগরীর সবুজায়ন বৃদ্ধিতে ভবনসমুহের আশেপাশে বা ছাদে এবং রাস্তার পাশে বা মধ্যবর্তী স্থানে গাছ রোপনে উৎসাহিতকরণ ও পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। খাদ্যে ভেজাল রোধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন, রাস্তার উন্নয়ন এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ইত্যাদির লাইন সংষ্কার সংক্রান্ত সেবা কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে মনিটরিং-এর আওতায় আনা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। নগরীর সকল মার্কেট ও আবাসিক এলাকাকে সন্ত্রাস,মাদক ও চাঁদাবাজীমুক্ত করা হবে। বিভিন্ন প্রকার মেলা ও রাজনৈতিক কর্মসূচী সিটি করপোরেশন কর্তৃক নিয়ন্ত্রন করা হবে এবং এসব উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময় ও স্থান নির্দিষ্ট করা হবে।
১২ দফা ইস্তেহার প্রকাশ করে আক্তারুজ্জামান আয়াতুল্লাহ বলেন, ‘নগর পুলিশ’ ব্যবস্থার প্রচলন করা হবে যারা পুলিশ বিভাগের তত্ত্বাবধানে সিটি করপোরেশনের অধীনে কাজ করবে। নগর পুলিশ সার্বক্ষণিক নগরীর সকল আবাসিক ও বাণিজ্যিক অঞ্চল, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং চলাচলের রাস্তায় নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বাড়িভাড়া সহনীয় পর্যায়ে রাখা ও ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে এবং শিক্ষার্থী ও ব্যাচেলর কর্মজীবীদের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী-
পুরুষের জন্য পৃথক এক বা একাধিক নিরাপদ, স্বাশ্রয়ী ও মনোরম ‘ব্যাচেলর হোস্টেল’ নির্মাণ করা হবে।
ইস্তেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন, মহাসচিব এ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম ও যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল আওয়ালসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি