অপরিচিত লোক দেখলে আতঁকে ওঠে ভজনপুরের মানুষ

গত ২৬ জানুয়ারী রবিবার সকালে পাথর উত্তোলনের দাবিতে সড়ক অবরোধের সময় পাথর শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় জুমার উদ্দীন নামে ১ জন শ্রমিক নিহত হয় ও পুলিশ, র্যাব সদস্য ১২ জন সহ প্রায় অর্ধশতাধিক পাথর শ্রমিক আহত হয়।

এ ঘটনার পর রাতে গাড়ি ভাংচুর,পুলিশের কাজে বাধাঁ দেয়া ও নিহতের ঘটনায় মার্ডার মামলা সহ ২ টি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এর পরে রফিকুল ইসলাম নামে একজন আটক হয়।

এ ঘটনার পর থেকে ভজনপুরের ৩৩ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখন আতঙ্কে। সেই সাথে দেবনগড় ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের পাথর শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ গ্রেফতারের আতঙ্কে আছে। কেমন আছেন ভজনপুরের মানুষজন সরেজমিনে দেখতে ও জানতে গেলে ভয়ে পালিয়ে যান অনেকে।

কেন কিসের কারণে আতঙ্ক জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেজিয়া (ছদ্মনাম) জানায় রবিবারের ঘটনার পর থেকে গ্রামে পুরুষ শূন্য প্রায়। রাতে কেউ বাসায় থাকেনা পুলিশের ভয়ে। না জানি কখন কাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।

নুর নাহার (ছদ্মনাম) বলেন আমাদের বাসার পুরুষেরা রাতে বাসায় থাকেনা। ভয়ে দিনের বেলাও ঠিকমত বাসায় আসেনা, পালিয়ে বেড়ায়। রাতে পুলিশ বাসার দরজায় ঠকঠক করে। কাউকে ঘরে না পেলে ভয় দেখায়। এভাবে আমরা খুব কষ্টে চলছি। বাসায় চাল-ডাল নেই, কি খাব, কে এনে দেবে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।

কহিনুর (ছদ্মনাম) জানান আমাদের গ্রামের ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েরা সেদিনের ঘটনার পর, থেকে ভয়ে দিনের বেলা স্কুলে যেতে পারছে না। রাতে পুলিশের ভয়ে পড়তে বসে না। রাতের বেলা কোথাও একা বের হয় না। লাইটের আলো দেখলে আত্কে এঠে।আমরা খু্ব অসহায় দিন যাপন করছি। কেউ আমাদের দেখতে আসেনা। জানতে চায়না আমরা কেমন আছি।

পুলিশ সুপার মো ইউসুফ আলী বলেন যারা ঐ কাজের সাথে জড়িত ছিল শুধু তারাই আইনের আওতায় আসবে অযথা কাউকে হয়রানি করা হবেনা বলে আশ্বস্ত করছি।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর