প্রতিবছরের মতো জ্ঞানের আলো ছড়াতে আবারও এসেছেন বিদ্যার দেবী সরস্বতী।জ্ঞান,বুদ্ধি, বিদ্যা ,শিল্পকলা ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনা কে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠেয় একটি অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস এদিনে সরস্বতী বিদ্যার দেবী পৃথিবীতে আসেন। শিক্ষার্থীরা এ দিন বিশেষভাবে পূজা করেন দেবী সরস্বতীর। দেবী সরস্বতীকে কেউ কেউ বীনাপাণি বা বাগদেবী হিসেবেও জানেন।
গতকাল ২৯ শে জানুয়ারী সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে শুরু হয় মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথি,যা আজ ৩০ জানুয়ারী সকাল ১১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত থাকছে এ তিথি। তিথি ২ দিন থাকায় এবার ২৯ ও ৩০ তারিখে পূজা হচ্ছে দেবী সরস্বতীর। তবে অধিকাংশরা আজ পূর্নলগ্নে দেবীর আরাধনা করছেন।
কুড়িগ্রাম জেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অস্থায়ী মন্ডপ, মন্দির ও বাড়িতে বাড়িতে চলছে দেবী সরস্বতীর পূজা। কুড়িগ্রাম সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভজন মোহন্ত বলেন,”আমাদের স্কুলে গতকালকে পুজা হয়েছে,আমরা অনেক মজা করেছি।”
মোল্লাপাড়া পূজা মন্ডপের সদস্য দীপ্ত সাহা বলেন,”আমরা বন্ধুরা মিলে এবার প্রথম পূজা করছি এখানে,অনেক ভালো লাগছে।” কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কল্লোল রায় বলেন,’গতকাল আমাদের কলেজে পূজা হওয়ার কথা ছিলো,পরে সিদ্ধান্ত বদলিয়ে,আজ পূজা করা হচ্ছে,স্যারদের সাথে পূজা করছি ভালো লাগছে।”
দেবী সরস্বতীর হাতে শ্বেত রুদ্রাক্ষের মালা, তিনি শ্বেতচন্দনে চর্চিতা, শ্বেতবাণীধারিণী, শুভ্রবর্ণা ও শ্বেত
অলঙ্কারে ভূষিতা। বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় সরস্বতী পূজা উপলক্ষ্যে বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে,মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা আয়োজিত হয়। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। শাস্ত্র মতে, এদিন দেবীর কাছে বিদ্যার অর্জনের প্রার্থনা করে ভক্তরা। পূজার সময় ভক্তরা প্রিয় দেবীর শ্রীচরণে অঞ্জলি প্রদান করে থাকেন।
এছাড়া পুরোহিতের মন্ত্র পড়ার সাথে সাথে উপস্থিত ভক্তরাও সে মন্ত্র মনে মনে পাঠ করতে থাকেন এবং দেবীকে স্মরণ করেন। শাস্ত্রীয় মতে আরো জানা যায়, শ্রীপঞ্চমীর দিন সকালেই সরস্বতী পূজা সম্পন্ন করা যায়। সরস্বতীর পূজা সাধারণ পূজার নিয়মেই হয়।
তবে এতে কয়েকটি সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। এরমধ্যে অভ্র- আবীর, আমের মুকূল, দোয়াত- কলম,পলাশ ফুল ও যবের শীষ এবং বাসন্তী রঙের গাঁদা ফুল অন্যতম। লোকাচার অনুসারে এদিন ছাত্রছাত্রীরা পূজার আগে কুল বড়ই খান না। পূজার দিন কিছু লেখা এবং বই পড়াও নিষিদ্ধ। পূজার পর লক্ষ্মী, নারায়ণ, লেখনী-মস্যাধার (দোয়াত-কলম), পুস্তক ও বাদ্যযন্ত্রের পূজা করার প্রথা প্রচলিত রয়েছে।
বার্তাবাজার/এমকে