বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বিশাল খেলার মাঠ- সবই আছে, নেই শুধু পর্যাপ্ত শিক্ষক। প্রায় দু’শ শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের শিক্ষক মাত্র একজন।
শিক্ষকের জন্য পাঁচটি পদ থাকলেও এর একটি শূন্য, দু’জন শিক্ষক দেড় বছরের ডিপিএড প্রশিক্ষণে, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন একজন।
ফলে প্রধান শিক্ষক একাই চালাচ্ছেন বিদ্যালয়। শ্রেণিকক্ষে পাঠাদান, দাপ্তরিক কাজ সবই একাই সামলাতে হচ্ছে তাকে। এ নাজুক অবস্থা নড়াইলের ভাটুদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। গত ১ বছর ধরে এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নে অবস্থান বিদ্যালয়টির।
প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম জানান, ১৯৬৫ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টিতে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণি রয়েছে। যা দুই পর্বে পরিচালিত হয়। প্রতি পর্বে একসাথে তিনটি শ্রেণিতে পাঠদান চালাতে হয় একজনকে। যা প্রায় অসম্ভব।
এই অসম্ভবকে নিজের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা দিয়ে সম্ভব করে চলেছেন এই প্রধান শিক্ষক। এই অবস্থার মধ্যেও বিদ্যালয়টির লেখাপড়ার মান সন্তোষজনক। গেল প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ২০জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয় জন।
এ অবস্থায় শিক্ষার মান সমুন্নত রাখতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান খান জানান, সংকট উত্তরণে দুজন শিক্ষককে প্রেষণে (ডেপুটেশন) বিদ্যালয়টিতে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
বার্তাবাজার/কেএ