হলুদে এককার, তাকালেই মনে হয় এ যেন হলুদের স্বর্গরাজ্য। আর সে হলুদের রাজ্যে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ঘুরে বেরিয়ে মধু সংগ্রহ করছে মৌমাছির দল। মালিকের জন্যই তাদের এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ছুটে চলা। দিন ভর আর যেন কোন কাজ নেই।
সূর্য উঠতেই শুরু হয় মধু সংগ্রহের ব্যস্ততা, চলে সূর্যের আলো নিভে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। মৌমাছিদের সারাদিন শুধু মালিককে খুশি করার জন্য ব্যাস্ত থাকা। আর এই ব্যাস্ততাই মৌমালিদের পূঁজি। তেমনি মৌমাছিদের ব্যাস্ত শহরের দেখা মেলে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের নয়ানগর এলাকার মধুপল্লী ও শ্রীনগর উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামে।
মৌচাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অগ্রহায়ণ থেকেই মধু সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। আর এ সময়টাতে মৌমাছি ও সর্ষে চাষীদের ব্যস্ততা একটু বেশী। সর্ষে ক্ষেতের পাশেই সারীবদ্ধ ভাবে বসানো হয়েছে মৌমাছির মধু সংগ্রহের বাক্স। মৌমাছিগুলো বাক্স থেকে নির্দিষ্ট পথে বের হয়ে ক্ষেতের সর্ষে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে ফিরে আসছে বাক্সে। বাক্সের ভেতরে থাকা বিশেষ ফ্রেমে মৌচাকে মধু জমা করে।
প্রতিটি বাক্সে রয়েছে ৮ থেকে ১০টি ফ্রেম। সপ্তাহ পরপর ওই সব বাক্স থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। প্রতি বাক্সে প্রায় ৪০-৫০ হাজার মৌমাছি আর একটি মাত্র রানী মৌমাছি থাকে। “মতিয়ান সন্স” মধু কোম্পানীর মোঃ শহীদুল ইসলাম বর্তমানে ৬০ টি মৌমাছির কলনী তথা বাক্স নিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতগাঁও গ্রামের সর্ষে ক্ষেতের নিকটের আরেকটি জমিতে।
মৌচাষী মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রধান ব্যাবসা মধুচাষ। সারা বছরই মৌমাছি আমরা পালি। ৬ মাস এদের দিয়ে আমরা আয় করি, আর ৬ মাস এদের পিছনে ব্যায় করতে হয়। ৬ মাসে মৌমাছির পিছনে ৫-৬ লাখ টাকা খরচ হয়, আর বছর শেষে ১০-১৫ লাখ টাকা ব্যাবসা হয়।
বর্তমানে আমাদের এখানে ৬ লাখ টাকার চালান আছে। মৌমাছি চাষ এবং মধু চাষ এটা আমার বাব-দাদার আমল থেকে করে আসতেছে। সেখান থেকেই আমরা প্রশিক্ষন নিয়েছি। এখানে অনেক রকমের অফিসাররা ও আসে। অনেক সময় কৃষি অফিসাররা এসে আমাদের মৌচাষে ভাল পরামর্শ দেয়।
মৌমাছির অনেক রকমের রোগ আছে। এতে করে মৌমাছি মারা যায়। কৃষি অফিসাররা যদি আমাদেরকে এ বিষয়ে বিশেষ কোন পরামর্শ দিতেন, যাতে মৌমাছিগুলো না মরে। রোগ থেকে যাতে মৌমাছিগুলো আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পারি। তাহলে আমাদের দিক থেকে অনেকটাই ভালো হত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মৌমাছির এই চাষ শুধু মৌচাষিকেই স্বাবলম্বী করছে না বরং দেশের শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করছে। শর্ষে ক্ষেতে মৌমাছি এক ফুল থেকে মধূ সংগ্রহ করে অন্য ফুলে গিয়ে বসছে। এতে মৌমাছির পায়ে পায়ে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পরাগায়ন হচ্ছে। এতে ফসলের উৎপাদন বেড়ে যাচ্ছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। একদিকে ফলন বৃদ্ধি আবার সঙ্গে বাড়তি লাভ মধু।
বার্তাবাজার/এমকে