আসন্ন সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা উপলক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নির্বিঘ্ন করতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে লেখাপড়ার স্বার্থে সন্ধ্যার পর সকল প্রকার মাইকিং, উচ্চস্বরে গানবাজনা বা ধর্মীয়সভা না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে শহর জুড়ে মাইকিং করেছে জেলা পুলিশ। এ নির্দেশনা লংঘন করলে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) জেলা শহরে মাইকিং করে এ নির্দেশনা দেয় জেলা পুলিশ।
মাইকিংয়ে জানানো হয়, ‘আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিকাল ৫ টার পর যেকোনও ধরণের প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে শব্দ যন্ত্র ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। একই সাথে পরীক্ষা চলাকালীন সময় পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে সকল ধরণের শব্দযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষেধ।’

এছাড়াও রাত ১০ টার পর যেকোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শব্দযন্ত্রের মাত্রা সীমিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যে কোনও পারিবারিক কিংবা চিত্ত বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে শব্দযন্ত্রের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।
শব্দযন্ত্র ব্যবহার নিয়ন্ত্রনে পুলিশের এমন প্রচারণাকে সাধুবাদ জানিয়েছে জেলাবাসী।
রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসান নলেজ বলেন,’জেলা পুলিশের এ উদ্যোগ আমাদের জন্য পরম পাওয়া। তবে এ উদ্যোগ শুধু শহর কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ না রেখে জেলার প্রতিটি উপজেলায় কার্যকর করা উচিৎ। কারণ গোটা জেলাতে শব্দযন্ত্রের মাত্রাতিরিক্ত দূষণ জেলাবাসীর শান্তি কেড়ে নিচ্ছে।’
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি,কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দুলাল বোস বলেন, ‘এটা সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে এটা শুধু এসএসসি পরীক্ষার সময়কালীন নয়, সারা বছর শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের উদ্যোগ প্রয়োজন।’
জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মাহফুজার রহমান বলেন,’ পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও শান্তিপূর্ণ ও শব্দ দূষণ মুক্ত পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মো.মহিবুল ইসলাম খান বলেন,’ আর অল্প কয়েকদিন পরেই এসএসসি পরীক্ষা। এই সময়ে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ার স্বার্থে সন্ধ্যার পর সকল প্রকার মাইকিং, উচ্চশব্দে গানবাজনা বা ধর্মীয়সভা না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে মাইকিং করা হয়েছে। এই আদেশ লংঘন করলে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
এ বিষয়ে সকলের সহযোগীতা কামনা করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘এই বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ, পুলিশ সুপার অথবা ৯৯৯ এ কল করে জানানো যাবে।’
বার্তাবাজার/কে.জে.পি