ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দুই পা কাটা বাবুল মিয়া (৪০) নামে জিনের বাদশাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার বাবুল উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কবিরবুলসোমা গ্রামের সব্দর আলীর ছেলে। হাঁটুর ওপর পর্যন্ত তার দুই পা কাটা। দুই হাতের বেশ কয়েকটি আঙ্গুলও নেই।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ঈশ্বরগঞ্জ থানায় রিয়াদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জিনের বাদশা নামে পরিচিত বাবুলকে আসামি করে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। পরে রাতে তাকে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কবিরবুলসোমা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশ জানায়, নরসিংদি জেলার রায়পুরা উপজেলার বাছাইকান্দি গ্রামের রূপচাঁন কাজীর মাদরাসা পড়ুয়া ছেলে দুলাল কাজী (১২) নিজ এলাকার একটি মাদরাসা থেকে গত ১৮ নভেম্বর হারিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দুলাল কাজী নিখোঁজের বিষয়টি খবর পেয়ে তাদের বাড়ির পাশে সাদ্দাম হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার লক্ষীগঞ্জে তার বাড়ির পাশেই এক ব্যক্তি জিন নামিয়ে হারানো কোনো কিছু সহজেই উদ্ধার করে দেন।
এ অবস্থায় নিখোঁজ দুলাল কাজীকে খুঁজে বের করতে মাত্র চার ঘণ্টা সময় লাগবে। এতে কিছু টাকা খরচ হবে। এ কথা শুনে দুইদিন পর সাদ্দামের সাথে ওই জিনের বাদশা বাবুলের কাছে আসেন দুলাল কাজীর স্বজনরা।
বাবুল তাদের বলেন, এই শিশু উদ্ধারে মাত্র চার ঘণ্টা সময় লাগবে। এই জন্য ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। দফারফা করে ৫০ হাজার টাকা কমে সাব্যস্থ করা হয়। নগদ দেয়া হয় দুই লাখ টাকা।
বাকী টাকা উদ্ধারের পর দেয়া হবে শর্তে জিন নামানোর কাজ শুরু করে বাবুল। এক পর্যায়ে জানানো হয় যেকোনো সময় চলে আসবে নিখোঁজ দুলার কাজী। এ অবস্থায় তাদের বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দেন বাবুল।
পুলিশ আরও বলেন, বাড়িতে গিয়ে দুদিনেও বাবুল কাজীর খোঁজ না পেয়ে আবার জিনের বাদশা বাবুলকে জানায়। বাবুল বাকী টাকা দাবি করে বলেন, টাকা না দিলে উদ্ধার প্রক্রিয়া বিলম্ব হবে। এমতাবস্থায় আর বাকী টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
কিন্তু কাজের কাজ কিছু না হলে তারা পরিবারের লোকজন নিয়ে বাবুলের বাড়িতে আসেন। এ সময় বাবুল আবার টাকা চাইলে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করে বাকী টাকা ফেরত দেওয়া জন্য বলতেই বাবুলের স্ত্রীসহ ৫/৬জন মিলে অস্ত্র দেখিয়ে চলে যেতে বলে। অন্যথায় জীবনে মেরে ফেলার হুমকী দেয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোখলেছুর রহমান আকন্দ জানান, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাবুলকে আটক করা হয়েছে। চক্রের বাকী সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দশ বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার পা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কেটে ফেলতে হয় বাবুলের। এরপর থেকে বাবুল পুঙ্গু হয়েও ভয়ংঙ্কর হয়ে ওঠে। ডলার বিক্রির ফাঁদে ফেলা ছাড়াও সোনার পুতুল ও পিলার বিক্রির ফাঁদে ফেলে নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা। প্রায় ২০ জনের দলের নেতৃত্ব দেন জিনের বাদশা বাবুল।
বার্তাবাজার/কেএ