করোনা ভাইরাস: চীন সফর না করার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

চীনের উহান শহরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিলেও চীনের নিষেধাজ্ঞায় এখনই তা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ফিরিয়ে আনতে আরো দুই সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে এখন পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে কেউ শনাক্ত না হওয়ায় আপাতত চীন সফর না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এছাড়াও তিনি জানান, নভেল করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনে বাংলাদেশ থেকে আপাতত কোনো বিশেষজ্ঞ দলকে চীনে পাঠানো হচ্ছে না।

সংক্রামক এই ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা ও করণীয় সম্পর্কে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতিগুলো বিস্তারিতভাবে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

এসময় এক সাংবাদিক মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, যখন কোনো বা সমস্যা হয় তখন সে সম্পর্কে জানতে বিশেষজ্ঞ দল বিদেশে পাঠানো হয়। করোনা ভাইরাস নতুন, চীন তাদের মত চিকিৎসা দিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে কোনো টিমকে চীনে পাঠিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?

এই প্রশ্নে হেসে ওঠেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী এবং সভার অংশ নেওয়া অন্যরা। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে প্রয়োজন নেই, প্রয়োজনীয়তা ফিলও করিনি। এই মুহূর্তে কোনো বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানোর প্ল্যান আমাদের নেই। প্রয়োজন হলে আমরা ভবিষ্যতে চিন্তা করব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাণঘাতী নোভেল করোনা ভাইরাসে চীনে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ আক্রান্ত হলেও, বাংলাদেশ থেকে চীন ভ্রমনে এখনো কোন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। তবে, দেশটিতে না যেতে অনুৎসাহিত ও সতর্ক করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেছেন, একান্ত প্রয়োজন না হলে চীনে না যাওয়াই ভালো। তবে, এখনও ভ্রমন নিষিদ্ধ করা হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বললে ভ্রমন নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই ভাইরাসটি খুবই দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে যায়। এটি যেন আমাদের দেশে যাতে না আসতে পারে সেজন্য সমস্ত ল্যান্ডপোর্ট ও এয়ারপোর্টে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি। এবং ওইখানে আমাদের যেসব স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ভাইরাসটি খুব সংক্রামক, তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে যায়। তবে, ভাইরাসটি যাতে দেশে না আসতে পারে সেজন্য সকল বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরে সতর্কবার্তা পাঠানোর হয়েছে। এছাড়া, সেখানে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এয়ারপোর্টে বসানো হয়েছে ভারী ও হ্যান্ড স্ক্যানার।

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও সংক্রামকব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দুই হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত করতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। চীনেও বাংলাদেশের কোনো শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয়নি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এসময় তিনি আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর