নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সের বর্হি বিভাগের ভবনের বেশকয়েকটি কক্ষের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া ছাদের আস্তর খসে নিচে পড়ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ভবনে ধসের ঝুকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা চলছে। এতে করে হাসপাতালের ডাক্তাররা আতঙ্কে দিনপার করছেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরাও থাকে চরম আতঙ্কে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হি বিভাগের ভবনটি চালু করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালের দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকটি কক্ষে ফাটল দেখা দেয়। পরে পর্যায়ক্রমে আরো বেশকয়েকটি কক্ষে আবার ফাটল দেখা দেয়। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হিবিভাগ ভবনের নিচ তলায় ৫, ৬, ৮, ৯, ১২, ১২, নং কক্ষের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এছাড়া ২য় তলার কিছু অংশে ও ৩য় তলায় রোগীদের ওয়ার্ডে দেয়ালের কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে, ৯ নং ও ৫ নং, ৬ নং কক্ষের দেয়ালে সবচেয়ে বেশি ফাটল দেখা দিয়েছে। এ কক্ষ গুলোর দেয়াল ফেটে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া ভবনের দেয়ালের আস্তর খসে খসে মাটিতে পড়ছে। অথচ হাসপাতালের ইমারজেন্সী বিভাগের ভবনটি ১৯৭২ সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্ত এত বছর পেরিয়ে গেলেও ওই ভবনটি এখনো সম্পূর্ণ ভাল রয়েছে।
তবে, বর্হি বিভাগের ভবনটি ভবনটি ৫ বছর না পেরোতেই বিভিন্ন কক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় ৫ বছর না পেরোতে এ ভবনের এ অবস্থা দেখা দেয়। ভবন ফাটলের বিষয়টি বেশকয়েকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে জানান হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালের বর্হি বিভাগের বেশকিছু ভবনের কিছু কক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমাদের দেশে ঘনঘন ভুমিকম্প হয়। ভুমিকম্পের জন্য সবচেয়ে বেশি শহর হচ্ছে ঢাকা। আর রূপগঞ্জ উপজেলাটি ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় এ উপজেলাটি ঝুকির মাঝেই রয়েছি।
গত ৪ বছর ধরে ভবন ধসের ঝুকি নিয়েই তারা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে দিনের পর দিন। তবে তারা বেশকয়েকবার সিভিল সার্জন অফিস ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে জানালেও তারা এত বছরেও কেউ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শীঘ্রই ভবনটি মেরামত না করা হলে যেকোন সময় বড় দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারেন।
চিকিৎসা নিতে আসা জাহাঙ্গীর মাহমুদ বলেন, আমি গোলাকান্দাইল এলাকা থেকে এসেছি। আমি ৮নং কক্ষে দাতের ডাক্তার দেখাতে এসেছি। এসে দেখি কক্ষের বেশকিছু অংশের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। দেয়ালের ফাটল দেখে আমি ভয়ে আতকে উঠি। এ ফাটলের কারণে যেকোন সময় বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় যেকোন বড় দূর্ঘটনা ঘটে।
ভোলাবো এলাকা থেকে আসা সূজন মিয়া জানান, আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে এখানে চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসেছি। কিন্তু বর্হি বিভাগের কক্ষ গুলোতে ফাটল দেখা দেওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আমাদের মতো সাধারণ রোগী আতঙ্কে থাকে। যারা নিম্ন বিত্ত আয়ের মানুষ রয়েছে।
যাদের প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে টাকা দিয়ে চিকিৎসা করার সামর্থ্য থাকেনা। তাদের একমাত্র ভরসার নাম হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল। ভবনের কক্ষের এ ফাটলের কারণে তারা বাধ্য হয়ে ঝুকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন প্রতিনিয়ত।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাঈদ আলম মামুন বলেন, ভবনে ভাটলের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বছরেই কর্তৃপক্ষ হাসপাতালটি পরিদর্শন করে ফাটল ধরা কক্ষগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করবে।
বার্তাবাজার/এমকে