দেশের চা শিল্পের ইতিহাসে এবার উৎপাদনে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চা উৎপাদনে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। এই প্রথম উৎপাদন ৯ কোটি কেজি ছাড়িয়েছে। কিন্তু এতো বড় একটি শিল্পের উৎপাদনের সঙ্গে যে মানুষগুলো জড়িত তাদের মজুরি বাড়ানোসহ সুযোগ সুবিধা নিয়ে কারো তেমন মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
দেশ স্বাধীনের পর একশ ৫০টি বাগানে চা উৎপাদন হতো তিন কোটি কেজির মতো। তখন শ্রমিকদের মজুরি ছিল দৈনিক সাড়ে ৭ টাকা। আর চলতি মৌসুমে ১৬৬টি বাগানে চা উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি কেজিরও বেশি। বর্তমানে চা শ্রমিকেরা দৈনিক মজুরি পাচ্ছেন ১০২ টাকা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ মজুরি বেদনাদায়ক বলে মনে করেন শ্রমিকরা।
যা মজুরি পাচ্ছেন তা দিয়ে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়াসহ অন্যান্য খরচ মেটানো কোনোভাবে সম্ভব নয় বলে জানালেন শ্রমিকরা।
১৯৫৭-৫৮ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। ওই সময় তার উদ্যোগে শ্রমিকদের ভোটাধিকার এবং শ্রমিক কল্যাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিসহ দেশের চা শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন হয়। কিন্তু পরবর্তীতে শ্রমিকদের নিয়ে তেমন কেউ ভাবেননি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সুরমা ভ্যালি শাখার সভাপতি রাজু গোয়ালা।
তিনি বলেন, চা শ্রমিকরা যাতে বঞ্চিত না হন সেদিকে সরকারের নজর দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
দেশের চা বাগানগুলোতে পাঁচ লাখ রেজিস্ট্রার, স্থায়ী ও মৌসুমি শ্রমিক কাজ করেন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি