রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে এমন দুশ্চিন্তা করতে হয়নি বাংলাদেশকে

সারা বছর পড়াশোনা না করা ছাত্ররা পরীক্ষার আগের রাতে যেমন দুশ্চিন্তায় ভোগে, বাংলাদেশ ফুটবল দলের অবস্থাও হয়েছে তাই। সকালে পরীক্ষার প্রশ্ন সহজ না কঠিন হবে, সেই দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম। কাল সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ প্রাক্–বাছাইপর্বের ড্র। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে কে, দুরুদুরু বুকে সে দিকে তাকিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা। বাছাইয়ের ওপরেই নির্ভর করছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের রাস্তায় বাংলাদেশ হাঁটতে পারবে কি না। যে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নের কথা শুনিয়েছিলেন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

এশিয়ার ৪৬ দেশের মধ্যে প্রথম ৩৪-এ থাকতে পারলে সরাসরি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলার সুযোগ পেত বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশ এর নিচে (৪১) হওয়ায় বাছাইপর্বের আগে জামাল ভূঁইয়াদের খেলতে হবে প্রাক্–বাছাই। এই বাধা টপকাতে পারলে আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। সঙ্গে থাকা যাবে কাতার বিশ্বকাপ খেলার নামকাওয়াস্তে দৌড়েও। কিন্তু ব্যর্থ হলে দিতে হতে পারে চরম মূল্য। ছিটকে যেতে হবে আগামী চার বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবলের মূল স্রোত থেকে। কারণ, বাদ পড়াদের জন্য এখনো পরবর্তী চার বছরের কোনো সূচি ঘোষণা করেনি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। যদিও গতবার বাদ পড়ে যাওয়া দলগুলো নিয়ে এএফসি সলিডারিটি কাপের আয়োজন করেছিল এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ এ সংস্থা। রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে এমন দুশ্চিন্তা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। র‌্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার সেরা ত্রিশে থাকায় সরাসরি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলেছিল দল। কিন্তু এবার খেলতে হচ্ছে প্রাক্‌–বাছাই। আর সেখানে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ম্যাকাও, লাওস, ভুটান বা মঙ্গোলিয়ার যেকোনো একটি। স্বাভাবিকভাবেই ড্রয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। যেহেতু নিজের হাতে কিছু নেই, তাই যা হওয়ার তাই হবে ভেবে চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা বাংলাদেশ কোচের, ‘১৭ তারিখের ড্রটা মজার হতে যাচ্ছে। কারণ, যা হওয়ার তাই তো হবে।’ লটারি ভাগ্যে যে-ই আসুক না কেন, হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে প্রাক্–বাছাইয়ের ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ৬ ও ১১ এপ্রিল।

কিন্তু সুযোগ থাকলে জেমি ডে কোন দলকে বেছে নিতেন? লন্ডনে ছুটিতে থাকা জেমির পেশাদারি জবাব, ‘প্রতিটি দলই শক্তিশালী। তাই প্রতিপক্ষের জন্য ড্রয়ের দিকেই তাকিয়ে আছি।’ প্রশ্ন করা হলো প্রতিপক্ষ হিসেবে কোন দলকে না পেলে খুশি হতেন? জেমির জবাব, ‘অবশ্যই মালয়েশিয়া। ছয়টি দলের মধ্যে এই দলটাই বেশি শক্তিশালী।’ পরিকল্পনা করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলার খেসারতই এখন দিতে হচ্ছে প্রাক্–বাছাইয়ের চাপ মাথায় নিয়ে। কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলে ফিফা র‌্যাঙ্কিংটা একটু ভালো করতে পারলে হয়তো এশিয়ায় প্রথম ৩৪ দলের মধ্যে থাকতে পারত বাংলাদেশ। সেটির জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বা মনোযোগ দৃশ্যমান ছিল না। ফিফার সূচিতে কবে কার সঙ্গে ম্যাচ খেলা হবে, সেটার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানও আগামী চার মাসে আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সূচি ঠিক করে রেখেছে আগেই। সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনাটা যখন করতে পারেনি বাংলাদেশ, ভয়ের চাপ তো নিতেই হবে। এই চাপের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভুটানকে চান অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। একে তো প্রতিশোধের উপলক্ষ, সঙ্গে অন্যদের তুলনায় ভুটানকে সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করছেন জামাল, ‘বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলে অবশ্যই ভুটানকে নিতাম। কারণ, সম্ভাব্য ছয়টি দেশের মধ্যে ভুটান তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ। এ ছাড়া ওদের হারিয়ে প্রতিশোধও নেওয়া যাবে।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে ভুটানের নামটি উঠলে এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বয়ে যায় হতাশার চোরাস্রোত। কারণ, ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর থিম্পুতে এশিয়ান কাপ প্রাক্–বাছাইয়ে স্বাগতিক ভুটানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের হার। দেশটির বিপক্ষে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম পরাজয়। আর এই হারের পর প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ভুটানের বিপক্ষে সেই হারের ম্যাচে অবশ্য ছিলেন না জামাল। বেলজিয়াম কোচ টম সেইন্টফিটের সঙ্গে মনোমালিন্য থাকায় বাদ দেওয়া হয়েছিল দেশের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডারকে। কিন্তু দেশে বসেই মেখেছিলেন সেই পরাজয়ের বিষাদ। অবশ্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফে জামালের নেতৃত্বেই ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টুর্নামেন্ট ও বাছাইয়ের মধ্যে পার্থক্য তো আকাশ–পাতাল।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর