দুই সহকর্মীকে হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজালেন ট্রাকচালক

ঢাকা থেকে সিলেট আসার পথে হবিগঞ্জের মাধবপুরে সহকর্মী ও তার বন্ধুকে খুন করেন ট্রাকচালক ইবরাহিম মিয়া ও হেলপার ফজর আলী। এরপর সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে ট্রাকটিকে একটি দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লাগিয়ে দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে পালিয়ে যান তারা। চাকরি হারানোর ক্ষোভ থেকেই মূলত দুই সহকর্মীকে হত্যা করেন তারা।

হত্যার পর দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি চালক ইবরাহিম মিয়া ও সহকারী ফজর আলীর । পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর আদালতেও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন দুই ঘাতক। জানিয়েছেন হত্যাকান্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা। গতকাল বিকালে সিলেট আদালতে স্বীকারোক্তি দেন সিলেট সদর উপজেলার বিমানবন্দর থানার ধোপাগুলের ইবরাহিম মিয়া ও বিশ্বনাথের ফজর আলী। এ দুজনের সঙ্গে হবিগঞ্জের জগদীশপুরের আরেক ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার পারাইরচকে ট্রাকের ভিতর থেকে চালক জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার বন্ধু রাজু মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের দুজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়।

আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে সিলেট মহানগরের মোগলাবাজার থানার ওসি আকতার হোসেন জানান, চুয়াডাঙ্গার আতাউর রহমান নামে এক মালিকের ট্রাক চালাতেন ইবরাহিম মিয়া। গত বৃহস্পতিবার মালিক তাকে চাকরিচ্যুত করে নতুন চালক জাহাঙ্গীর মিয়ার কাছে ট্রাক হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। গাজীপুর থেকে ইবরাহিমের কাছ থেকে জাহাঙ্গীর ট্রাক বুঝে নেন। পরে ওই ট্রাকে করে একটি কোম্পানির মাল নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন জাহাঙ্গীর ও তার বন্ধু রাজু মিয়া। সহযাত্রী হন আগের চালক ইবরাহিম মিয়া ও তার হেলপার ফজর আলী। রাস্তায় পালাবদল করে ট্রাক চালানোর দায়িত্ব নেন ইবরাহিম। হবিগঞ্জের মাধবপুরে আসার পর ট্রাকের ভিতর ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা জাহাঙ্গীর মিয়া ও রাজুকে ফাঁস দিয়ে খুন করেন ইবরাহিম ও ফজর আলী। এরপর হবিগঞ্জের জগদীশপুর এসে ট্রাকের ১০টি চাকার মধ্যে চারটি খুলে ও ভিতরে থাকা আরেকটি মিলিয়ে মোট পাঁচটি চাকা একটি দোকানে বিক্রি করেন তারা।

পরে চলে আসেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে। সেখানে একটি দেয়ালের সঙ্গে ট্রাকটিকে ধাক্কা লাগিয়ে দুর্ঘটনা সাজিয়ে ভিতরে জাহাঙ্গীর ও রাজুর লাশ রেখে পালিয়ে যান ইবরাহিম ও ফজর। পুলিশ দুজনের লাশ উদ্ধার করে তদন্তে নেমে হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে। পরে সিলেট থেকে আটক করা হয় ইবরাহিম ও ফজরকে। আর হবিগঞ্জের জগদীশপুর থেকে ট্রাকের চাকা ক্রয়কারী ব্যবসায়ীকেও আটক করা হয়। ওসি আকতার হোসেন জানান, আটকদের কাছ থেকে ট্রাকের চাকা, চাকা বিক্রির ৭ হাজার টাকা ও নিহতদের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত রাজুর ভাই সাজু মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর